নির্বাচনকালীন সরকারে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি চায় বিএনপি

নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে নির্বাচনকালীন সরকার চায় বিএনপি।দলটির নেতারা বলেছেন, কোনও দলের ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে, সেটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।এ সরকার গঠিত হতে হবে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে। যেসব যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হতো,এখন সেরকম যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি  নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।কোনও দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে,সেটা নিরপেক্ষ থাকবে না। তা দলীয় সরকারই হয়ে যাবে।

বিএনপির নেতারা বলেছেন,কোনও দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।তার প্রমাণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পালাবদল হয় না।নির্বাচনগুলো দলীয় সরকারে অধীনে হওয়ায় সুষ্ঠুও হয় না। সেখানে কিভাবে জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হবে। তাই নির্বাচনকালীন সরকার হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তি দিয়ে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে হবে দল নিরপেক্ষ লোক দিয়ে।রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত নেই দেশের এমন বিশিষ্টজনদেন নিয়ে ওই সরকার গঠন করতে হবে।সেটা আইনজীবী বা বিচারপতি হতে পারে। উচিত হবে বিগত তিনবারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোতে যেভাবে ছিল,সেই রকম ব্যক্তিদের দিয়ে গঠন করা।আমরা সেই দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন,
দলীয় লোক দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে সেটাকে বলতে হবে নির্বাচনকালীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের সরকার। আমরা তো কোনও দলীয় সরকারের কথা বলি নাই।যদি দলীয় লোকের নির্বাচনকালীন সরকারের নির্বাচনে যেতে হয়,তবে তো বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনেই অংশ নিতো। সেখানে তো সর্বদলীয় সরকার হওয়ার কথা ছিল।তখনকার নির্বাচনকালীন সরকারে খালেদা জিয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দিতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,
নির্বাচকালীন সরকার নিয়ে এর আগেও আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন।এটা তাদের নিজস্ব বক্তব্য।তবে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে সব দলের মতামত নিয়ে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের নিয়ে।     

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে,নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা দেওয়ার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। সেই রূপরেখার খসড়া প্রস্তুত করা আছে। নির্বাচনের আগে যদি খালেদা জিয়া মুক্তি পান, তাহলে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেনস। আর তিনি মুক্তি না পেলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বাইরে অন্য দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে, তখন সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেওয়া হবে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বাংলা ট্রিবিউন বলেন, আমরা এখন কোনও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ভাবছি না। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া আগে মুক্তি পাবেন, তারপর তিনিই ঠিক করবেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে কিনা। নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের বিষয়ে খালেদা জিয়া আগেও বলেছেন যে, বিএনপি কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে এবং সেই সরকারের রূপরেখা কেমন হবে, কারা সেই সরকারে থাকেব।

প্রসঙ্গত, বুধবার (২০ জুন) সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ বছরের অক্টোবরেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে।নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারে।