ভারতের নাক গলানোর অধিকার নেই : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমরা এমনিতেই দেশের লোকেরা মনে করি বিএনপি জামায়েত আলাদা থাকা উচিত। কিন্তু এই বিষয়ে ভারতের নাক গলানোর অধিকার নেই। বিএনপিকে ঘরে বসে ঘোমটা দিয়ে না থেকে রাস্তায় বের হতে হবে।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকের তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের রাজনীতিকরা। সম্প্রতি দলটির তিন নেতা দেশটিতে গেলে এ পরামর্শ দেয়া হয়। যদিও এ সফর নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, বিএনপির ঘনিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রশ্ন উঠেছে ভারত বিরোধিতার রাজনীতি থেকে কী সরে আসছে দলটি? অবশ্য এ নিয়েও সন্দেহ কারও কারও। এদিকে, বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ট দুজন জানান, কোনো আমন্ত্রণ ছাড়াই ভারত গিয়েছিল বিএনপির প্রতিনিধিরা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই জামায়াত ইসলামির সাথে সম্পর্ক নিয়ে দেশে-বিদেশে প্রশ্নের মুখে বিএনপি।

সম্প্রতি দলটির তিন নেতা ভারত সফরে গিয়ে সেখানকার প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতা ছাড়াও, মোদি সরকারের ঘনিষ্ট কয়েকজনের সাথে দেখা করেন। তাদের প্রায় সবাই বিএনপিকে, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও এ নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি, বৈঠকে অংশ নেয়া দুই ভারতীয়।

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে, কথিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহযোগিতা কিংবা নিজ দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ বেশ পুরনো। যা ভারতীয় স্বার্থপরিপন্থি বলে প্রায়ই আলোচনায় আসে বিভিন্ন ফোরামে।

বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবী বলছেন, নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে হবে দলটিকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পেছনে ঘুরে যাচ্ছি বিষয়টি তা নয়। আবার নতুন করে শুরু করা হচ্ছে তাও নয়।

তবে দলটির ঘনিষ্ট আরেকজন বেশ বিরক্ত, ভারতের সাথে বিএনপির এই তৎপরতায়। আর এই রাজনৈতিক বিশ্লষকের সন্দেহ বিএনপির ভূমিকা নিয়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, তারা (বিএনটি) ভারতের বিরোধীতা করছে। আর ভারতের সফরে গিয়ে তারা এই বার্তাটি দেবের চেষ্টা করছে যে আমরা আগের মতো নেই।

তবে তিনি মনে করছেন, দেশের ভেতরে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করতে না পারলে তেমন ভাল হবে না বিএনপির।