হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা পর্যন্ত মেট্রো রেল হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের প্রথম মেট্রো রেলের কাজ চলমান অবস্থায় এবার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা পর্যন্ত আরেকটি মেট্রো রেল নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এমআরটি ৫ নামের এই মেট্রো রেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩৫ কিলোমিটার। তবে এটি ওপর দিয়ে নয়, যাবে মাটির নিচ দিয়ে। এরই মধ্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। রুটও নির্ধারণ করা হয়েছে।

হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে আমিনবাজার, গাবতলী, দারুস সালাম, মাজার রোড, মিরপুর ১, মিরপুর ১০, মিরপুর ১৪, কচুক্ষেত, বনানী সেনানিবাস, গুলশান ২, নতুন বাজার, ভাটারা হয়ে ভুলতায় গিয়ে মেট্রো রেলের কাজ শেষ হবে। এখন মূল কাজ শুরুর অপেক্ষায়। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। যদিও এর ব্যয় আরো বাড়ার আভাস মিলেছে। তার আগে এই প্রকল্পে অর্থায়নকারী জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার (জাইকা) সঙ্গে চুক্তি সই। আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এমআরটি ৫সহ মোট ছয়টি প্রকল্পে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাইকা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার সব প্রকল্পে চুক্তি সই হবে। ৩৯তম ইয়েন লোন প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে জাইকা। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দেশটির সরকার যে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটি তারই অংশ।
জাইকা এ যাবৎকালে বাংলাদেশকে যত টাকা ঋণ দিয়েছে, ৩৯তম ইয়েন লোন প্যাকেজের আওতায় ঋণের টাকা হবে সবচেয়ে বেশি। তবে ৩৯তম ইয়েন লোন প্যাকেজ থেকে বাংলাদেশের জন্য ঋণের সুদের হারও বাড়াচ্ছে জাইকা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সস্তা সুদে ঋণ পাওয়ার দিন শেষ। আগে যেখানে সুদের হার ছিল ০.০১ শতাংশ, সেটি এখন থেকে ১ শতাংশ হারে দিতে হবে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে জাইকা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংক ঘোষিত নিম্ন আয়ের দেশ হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এত দিন জাইকার কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেয়ে আসছে। সে ঋণের সুদের হার ছিল ০.০১ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার ঋণে এক পয়সা। জাইকা জানিয়েছে, বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে পর পর তিন বছর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে মাথাপিছু জাতীয় আয় ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং এ সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়েছে। তাই এখন আর সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পে ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ শতাংশ। আর মেডিক্যাল সুবিধা ও সেবাসংক্রান্ত প্রকল্পে সুদের হার হবে ০.৯০ শতাংশ। এর সঙ্গে পরামর্শক সেবা থাকবে ০.০১ শতাংশ। ৩০ বছরে বাংলাদেশকে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে গ্রেস পিরিয়ড থাকবে ১০ বছর। অর্থাৎ এই সময়ে কোনো সুদ গুণতে হবে না। শুধু মূল টাকা কিস্তিতে দিতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু। বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটি অবদান রেখে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এমআরটি ৫সহ মোট ছয়টি প্রকল্পে ১৬০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। তবে ৩৯তম ইয়েন লোন প্যাকেজ থেকে ঋণের সুদের হার কিছুটা বাড়বে। এটি বিশ্বব্যাংকের নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কারণে।
ইআরডি সূত্র বলছে, ৩৯তম ইয়েন লোন প্যাকেজের আওতায় এমআরটি ৫সহ মোট ছয়টি প্রকল্পে ১৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা। বাকি প্রকল্পগুলো হলো কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, যমুনা সেতুর পাশে আলাদা একটি রেললাইন প্রকল্প, মেট্রো রেল ৬ প্রকল্পে বাড়তি অর্থায়ন এমআরটি ৫ প্রকল্প, মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি অর্থায়ন প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। এর আগে গত বছর ৩৮তম ইয়েন লোন প্যাকেজের আওতায় আট হাজার কোটি টাকা ঋণচুক্তি সই হয়েছিল। তারও আগে ৩৭তম ইয়েন লোন প্যাকেজের আওতায় ছয়টি প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল জাইকা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এন সিদ্দিক বলেন, এমআরটি ৫-এর সমীক্ষার কাজ শেষ। এখন মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তবে এই মেট্রো রেলের কাজটি হবে মাটির নিচ দিয়ে। এমআরটি ১-এর সমীক্ষার কাজও চলছে বলে জানান এম এন সিদ্দিক। সেটির রুট হবে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন এবং পূর্বাচল পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটিও জাইকার অর্থায়নের কথা রয়েছে। চলমান মেট্রো রেল ৬-এর ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা, যার বড় একটি অংশ দিচ্ছে জাইকা।