যে কারণে প্রিয়াঙ্কাকে পাকিস্তানে পাঠানোর দাবি করলেন হিন্দুবাদীরা?

ফুলকি অনলাইন: যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি সিরিজের কাহিনীকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ভারতীয় অভিনেত্রী ও বলিউড সুপারস্টার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া তার ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

গোয়েন্দা কাহিনীর উপর ভিত্তি করে তৈরি থ্রিলার কোয়ান্টিকোর সাম্প্রতিক একটি পর্বে দেখা যায় এর প্রধান চরিত্র, যাতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনয় করছেন, কাশ্মীরের উপর অনুষ্ঠেয় এক সম্মেলনের আগে, কয়েকজন হিন্দু জাতীয়তাবাদীর একটি হামলা পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন।

এই কাহিনীতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তার বহু ভারতীয় ভক্ত এবং তাকে অনলাইনে আক্রমণ করেছেন।

এর জবাবে মিস চোপড়া টুইট বার্তায় নিজেকে একজন ‘গর্বিত ভারতীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। এবং সিরিজের কাহিনীর কারণে কারো মনে আঘাত লেগে থাকলে তার জন্যে দুঃখও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, কাউকে আঘাত করা তার কোন উদ্দেশ্য ছিল না।

‘ব্লাড অফ রোমিও’ বা ‘রোমিওর রক্ত’ নামের এই পর্বটি প্রচারিত হয় গত ১ জুন। এই পর্বে দেখা যায় যে নাটকের প্রধান চরিত্র, যিনি একজন এফবিআই গোয়েন্দা এলেক্স পারিশ, তিনি একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দিয়েছেন।

এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল কাশ্মীর সম্মেলনের আগে এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি আবিষ্কার করেন যে আসলে পাকিস্তানিরা নয়, বরং কয়েকজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী মিলে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এবং হামলার জন্যে পাকিস্তানিদের দায়ী করার জন্যে তারা আক্রমণকারীরা একটি নাটকও সাজিয়েছিল।

ভারত ও পাকিস্তান দুটো দেশই দাবি করে কাশ্মীর তাদের অংশ এবং এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ১৯৪৭ সালের পর পরমাণু শক্তিধর এই দুটি দেশ দু’বার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।

কোয়ান্টিকোর এই পর্বটি প্রচারিত হওয়ার পর অনলাইনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা হয়। অনেকে তাকে উল্লেখ করেন ভারতের জন্যে ‘অপমান’, ‘লজ্জা’ হিসেবে আবার অনেকেই অভিযোগ করেন যে সিরিজের এই পর্বটিতে হিন্দুদের উপর শুধু নয়, এর মাধ্যমে ভারতের উপরেও আক্রমণ করা হয়েছে।

প্রতারক, দেশদ্রোহী উল্লেখ করে তাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়ার কথাও বলেছেন কেউ কেউ । টুইটারে একজন লিখেছেন, “প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পাসপোর্ট বাতিল করা হোক। তাকে যেন ভারতে ঢুকতে দেয়া না হয়…আপনি হলিউডে থাকুন, পাকিস্তানিদের জুতা চাটতে থাকুন।”

আবার অনেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পক্ষেও বলেছেন। তাদের অনেকে বলেছেন, এটা শুধু টেলিভিশনের একটি নাটক যার সাথে বাস্তবের কোন সম্পর্ক নেই। “এ রকম একটি কাল্পনিক কাহিনীর জন্যে আপনি কেন ক্ষমা চাইছেন?” প্রশ্ন করেছেন একজন টুইটার ব্যবহারকারী।

দুঃখ প্রকাশের পরেও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার প্রতি কারো কারো ক্ষোভ একটুও কমেনি। তারা বলছে, “আপনি কাহিনীটি পড়েছেন, রিহার্স করেছেন তারপর বহুদিন ধরে এটাতে অভিনয় করেছেন। তারপরেও এরকম ভুল হয় কীভাবে?”

এর আগেও সোশাল মিডিয়াতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে আক্রমণ করা হয়েছে।
শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, রাজধানী দিল্লিতেও এর প্রতিবাদে হিন্দু কট্টরপন্থীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে।

এই সিরিজের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবিসি ‘এরকম একটি জটিল রাজনৈতিক ইস্যুতে’ কাহিনী তৈরি করার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তবে তারা এজন্যে মিস চোপরাকে আক্রমণ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, এই কাহিনী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া লিখেননি, এই পর্বটি পরিচালনাও করেননি, সিরিজের কাহিনী তৈরির পেছনে তার কোনো ভূমিকাও ছিল না।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে এর আগেও ভক্তদের দিক থেকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকের সময় তিনি এমন একটি কাপড় পরেছিলেন যাতে তার পা দেখা যাচ্ছিল। সোশাল মিডিয়াতে তখনও তাকে এজন্যে আক্রমণ করা হয়েছিল।

এছাড়াও তিনি যে সম্প্রতি বাংলাদেশে মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবির দেখতে গিয়েছিলেন তাতেও তার সমালোচনা করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ভারতীয় সিনেমায় অভিনয়ে সাফল্য অর্জন করার পর তিনি আন্তর্জাতিক সিনেমাতেও নাম লিখিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ৫০টিরও বেশি ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।