জনগণ ক্ষমতায় বসাবে, ভারত না: ওবায়দুল কাদের

 ‘জনগণ ক্ষমতায় বসাবে, ভারত না। বিএনপি আমাদের ভারত সফর নিয়ে অভিযোগ করেছে, কিন্তু আমাদের কোনো অভিযোগ নেই’ বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লি সফরে যায়। তখন বিএনপি এই সফরের সমালোচনা করেছিল। তবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তাদের ভারত সফর নিয়ে অভিযোগ করলেও বিএনপির ভারত সফর নিয়ে তাদের কোনো অভিযোগ নেই।

কাদের বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জনগণই আমাদের ক্ষমতায় বসাতে পারে, ভারত না। বিদেশি কেউ না। আমরা ভারতের সাথে নির্বাচন নিয়ে কথা বলিনি। আমরা আমাদের জনগণের কাছে ভোট চাইতে পারি। তারাই ঠিক করবে কে ক্ষমতায় থাকবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কারণ শেখ হাসিনা পরবর্তী নির্বাচনের রাজনীতি করেন না, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রাজনীতি করেন।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ কেউ এমন দলাদলি করেন যে, বিএনপির চেয়ে নিজের দলের নেতাকে বেশি শত্রু ভাবেন। এসব করে লাভ নেই। সুস্থ প্রতিযোগিতা করুন। নেত্রীর কাছে সবার খবরই আছে। উইনেবল ক্যান্ডিডেটকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে দলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি। একটা মতলবি মহল সবসময় মাতামাতি করে। মানুষ যেখানে খুশি, সেখানে তারা অখুশি। কিন্তু দেশের মানুষ যেটাতে খুশি, সেটা আমরা করে যাবো।’

‘মাদকবিরোধী অভিযানে মানুষ খুশি। আমরা মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবো। ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবো।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই ভারতের ‘হস্তক্ষেপ’ ব্যাপক আলোচিত বিষয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ভারতের সমর্থনে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসে বলে প্রচার আছে। আওয়ামী লীগ ভারতমুখি এবং বিএনপি ভারতবিরোধী এমন প্রচারও রয়েছে। তবে সম্প্রতি বিএনপি ভারতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বাড়িয়েছে। কয়েক দিন আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যসহ তিন নেতা ভারতে সফর করে সেখানকার ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন। হঠাৎ বিএনপি নেতাদের এই ভারত সফরকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।