মাদকবিরোধী অভিযান: এক মাসে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১৫০

ফুলকি ডেস্ক : দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত এক মাসে ১৫০ জনের নিহতের কথা জানাল আইনশৃঙখলা বাহিনী।

গত ১২ মে থেকে ১১ জুন রাত ২টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এসব নিহতের ঘটনা ঘটে।

র‌্যাব-পুলিশের ভাষ্য, নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ‘নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে’ তারা নিহত হয়। সর্বশেষ রোববার রাতে রাজধানীর ভাটরা ও সিরাজগঞ্জের রায়পুর রেল স্টেশন এলাকায় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন করে দুজনের নিহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সিরাজগঞ্জে নিহত ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করলেও রাজধানীতে নিহত ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য, রাত ২টায় ডিবি পুলিশের একটি দল রায়পুর রেল স্টেশন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালালে শাহীন রেজা (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অন্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩০৭ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানিয়ে পুলিশ আরো জানায়, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাদের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এদিকে রাজধানীর ভাটরা এলাকায় কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শরীফুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবকের নিহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ভাটরা থানার উপপরিদর্শক শাহীন আমান উল্যাহর ভাষ্য, বসুন্ধরা গেট এলাকায় রাত ৩টায় গোয়েন্দা পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় শাহীন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক শাহীনকে মৃত ঘোষণা করে। তবে, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ এবং নিহত শাহীনের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ। মাদকবিরোধী অভিযানে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের ঘটনা নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেই কক্সবাজারের টেকনাফের আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার অডিও টেপ প্রকাশ হয়। এর ফলে এ অভিযান আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে। এরই মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ব্যাপক সংখ্যক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রকাশের পর মাদকবিরোধী অভিযান ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় কিছুটা শিথিলতা লক্ষ্য করা গেছে। এরপর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাও বাংলাদেশের চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ব্যাপক নিহতের ঘটনায় প্রশ্ন তুলে এর বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি করে।   এসব প্রশ্ন ও বিতর্ক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ প্রকাশের পর বর্তমানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ীদের নিহতের কথা না জানিয়ে তাদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের বর্ণনা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কখনো বলা হচ্ছে- স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আবার কখনো বলা হচ্ছে- মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হচ্ছে।-ইউএনবি