বিল না দিলে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার নির্দেশ

ফুলকি ডেস্ক : ‘ডিসকানেক্ট ফর নন পেমেন্ট’ পদ্ধতিতে টাকা না দিলেই বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়ে বকেয়া বিল আদায়ে বিশেষ দল মাঠে নামানোর নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাঁচ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে বিশেষ এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের কাছ থেকে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়ার পরও ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ¬াই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ও  ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ছাড়া বাকি চারটি কোম্পানি ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণেই এবার বিল আদায়ে বিশেষ অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে ‘ডিসকানেক্ট ফর নন পেমেন্ট’ টিম গঠন করে বিল আদায় শুরু করেছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সেখানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যিনি হোন, বিল না দিলে সরাসারি লাইন কেটে দেওয়া হবে। ভালো ফল মিলেছে ওই প্রক্রিয়ায়। বিদ্যুৎ নিতে হলে টাকা দিয়েই নিতে হবে এই মানসিকতা তৈরি জরুরি বলে মনে করা হয়। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিদ্যুৎ বিল অনেক ক্ষেত্রে আটকে থাকে।এতে আমাদের বিতরণ কোম্পানির ওপর চাপ বাড়ে। এমনিতে বিদ্যুতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়।আবার বিল আদায় না হলে বিতরণ কোম্পানিগুলো পিডিবির বিদ্যুতের দর পরিশোধ করতে পারে না।আবার পিডিবি টাকা না পেলে উৎপাদনকারীদের বিল দিতে পারে না।সব মিলিয়ে একটির সঙ্গে আরেকটি বিষয় সম্পর্কযুক্ত। এ কারণে এবার বিল আদায়ে কঠোর হওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে কেবল ডেসকো  ও  ডিপিডিসি। বাকি চারটি কোম্পানিÍনর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ¬াই কোম্পানি (নেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো),  বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল¬ী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে এসব কোম্পানিকে কঠোরভাবে বিল আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কার্যক্রমও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিল আদায় না হয়ায় আন্তঃসংস্থার দেনার পরিমাণও বাড়ছে।যার প্রভাব গিয়ে পড়ছে উৎপাদন কোম্পানির কাছে। পিডিবি বিদ্যুৎ বিক্রি করেও ঠিক সময়ে বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে।কোনও কারণে বিল আদায়ে ব্যর্থ হলে তাদের শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, দেশের মোট ছয়টি বিতরণ কোম্পানির মধ্যে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত চার বিতরণ কোম্পানির বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৫ হাজার ৭৭৯ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। এরমধ্যে মে মাস পর্যন্ত পিডিবির বকেয়া ছিল ১ হাজার ৩৯৭ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা। আরইবি’র ২ হাজার ৯১ দশমিক ৭৮ কোটি টাকা। ওজোপাডিকো’র৩৪০ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা ও নেসকো’র ৬০২ দশমিক কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে পিডিবির মতো ডিসকানেক্ট ফর নন পেমেন্ট টিম তৈরি করে কার্যকর করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করণের মাধ্যমে বকেয়া বিল আদায়ে তৎপর হতে হবে। এদিকে, বকেয়া বিল আদায়ে এরইমধ্যে গত এপ্রিল মাসে সবমিলিয়ে ৪১৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে বিভাগীয়ভাবে ৫২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪৯ টাকা বিল বাবদ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে পিডিবির আওতাধীন এলাকা থেকে ৩২ লাখ ৯৭ হাজার ৯০৯ টাকা, আরইবির এলাকা থেকে ৫ লাখ ৬০ হাজার ৪০টাকা, ডেসকোর এলাকা থেকে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪০ টাকা, ওজোপাডিকো ২৮ হাজার এবং নেসকো১ লাখ ৪ হাজার ৮৬০ টাকা আদায় করেছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।টাস্কফোর্সের মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কার্যক্রম পরিচালনারও জন্য বলা হয় বৈঠকে। জানা গেছে, অভিযানের মাধ্যমে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্য ৮৮ হাজার ২০৩টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছন্ন সংযোগের বিপরীতে বকেয়ার পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি ৮৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৩ টাকা।অন্যদিকে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় ১ হাজার ৪০৫টি। এই অভিযানে আরইবির আদায় করা বিলের পরিমাণ ২৬ কোটি ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬৭ টাকা, ডেসকোর ৭ কোটি ৮৪ লাখ ২৯ হাজার ২৯৬ টাকা এবং ওজোপাডিকোর ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।