মিরাজের সাথে সাব্বিরের মারামারি

ফুলকি অনলাইন: আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ৭ জুন দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে রুবেল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সঙ্গে বাদ পড়েন সাব্বির রহমান।

খালি চোখে মনে হতে পারে, সাব্বিরের বাদ পড়ার কারণ আগের দুই ম্যাচের পারফম্যান্স। আগের দুই ম্যাচ মিলিয়ে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান করেন মাত্র ১৩ রান। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শেষ ম্যাচে বাদ পড়েন সাব্বির।

বিসিবির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে  ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ঘটনা মূলত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি চলার সময়। ৫ জুন ম্যাচ চলাকালে ড্রেসিংরুমে সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান সাব্বির। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শেষ পর্যন্ত মারামারিতে গড়ায়। সাব্বির-মিরাজের ঝগড়ার বিষয়টি ধরা পড়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দেরাদুনে যাওয়া বোর্ডের এক কমর্কর্তার চোখে।

প্রত্যক্ষদর্শী ওই কমর্কর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এটা তেমন বড় কোনো ইস্যু নয়, কেবলই ভুল বোঝাবুঝি। এমনকি এই ঘটনা ম্যানেজারের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়নি।’

জানা গেছে, ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ রয়েছেন সাব্বির। নতুন করে শৃঙ্খলাভঙ্গের আরেকটি ঘটনা ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য আরও খারাপ ফলাফল বয়ে আনতে পারে ভেবেই বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছেন দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন।

গেল বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচ চলাকালে কিশোর এক ভক্তকে পিটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন সাব্বির। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জরিমানা হিসেবে দেন ২০ লাখ টাকা। এখানেই শেষ নয়, বাদ পড়েছেন বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকেও।
এই ঘটনার আগেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ওঠে সাব্বিরের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে টিম হোটেলে নারী অতিথিকে এনে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ১২ লাখ টাকা জরিমানা দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসরে সাব্বিরকে ম্যাচ ফির অর্ধেক জরিমানা করা হয়। সঙ্গে জুটেছে তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। সে সময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে মাঠে আম্পায়ারের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলা এই ব্যাটসম্যান।