মাদকবিরোধী অভিযানে আটক যুবক প্রিজনভ্যান থেকে ফেসবুক লাইভে

 দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে শনিবার (৯ জুন) ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও ও রামপুরা থেকে ৪৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

এদের মধ্যে মেহেদী হাসান রেইন নামে এক যুবক পুলিশের প্রিজনভ্যান থেকেই ফেসবুক লাইভ করেন। অবশ্য আটকের ৫-৭ ঘণ্টা পর তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে, রামপুরা থানা এলাকার তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট থেকে মেহেদীকে অন্যদের সঙ্গে আটক করেছিল পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। আর পুলিশের অগোচরে পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেহেদী হাসান ফেসবুক লাইভে আসেন।​​​​​​​

সেখানে তিনি বলেন, আসসালামু আলাইকুম। আজকে ফার্স্ট টাইম লাইভে, তাও আবার আমরা পুলিশের গাড়িতে। আমাদের সরকার মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। সেই অভিযানে তারা যাদের পাচ্ছে, তাদেরই নিয়ে আসতেছে। এখানে যারা আছেন, সবাই ব্যবসায়ী, আমাদের অযথা নিয়ে আসছে। আসলে ফার্স্ট টাইম লাইভে আসতে হবে পুলিশের গাড়িতে, এটা কখনো ভাবতে পারি নাই।

লাইভে মেহেদীর সঙ্গে অন্যদের বেশ হাসি-খুশি দেখাচ্ছিল। তবে একজন বারবার রুমাল দিয়ে তার মুখ ঢাকছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, আজ রামপুরা থানা এলাকা থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৬ জনকে রেখে বাকিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, মূলত সন্দেহভাজন হিসেবেই তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছিল। এরপর যাদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের নামে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদে রবিবার (১০ জুন) আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

প্রিজনভ্যানে মেহেদীর ফেসবুক লাইভের বিষয়ে ওসি বলেন, বাজার থেকে আটকের সময় দু’তিনজন সাধারণ ব্যবসায়ীও ছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের ছেড়ে দিয়েছি। এখন জানতে পেরেছি, মেহেদী হাসান রেইন নামে এক ছেলে প্রিজনভ্যানে থেকে ফেসবুক লাইভ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তা ছাড়া প্রিজনভ্যানে ছেলেটি মোবাইল কিভাবে নিয়ে রেখেছিল, সেটাও যাচাই করা হচ্ছে। তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।