রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরল বৈঠক

 রাখাইন রাজ্যে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে বিরল এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট উইন মিয়ান্টের কার্যালয়ের তরফ থেকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাংসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট উইন মিয়ান্টের কার্যালয়ের তরফ থেকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তাসহ রোহিঙ্গা সংকটের অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৬ সালে সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ধরনের বৈঠক করলো। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘের সঙ্গে মায়ানমারের চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগের মুখে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র এই সেনা অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছে।

পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এই সপ্তাহে জাতিসংঘ ও মায়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের আগের কয়েক মাসে চলে টানাপোড়েন। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার প্রস্তুত থাকার কথা বলে আসলেও বহিরাগত কাউকে সেখানকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ দিতে অস্বীকার করে আসছিল।

আগামী ২০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রাখাইনে সেনা অভিযানের বিষয়ে তদন্ত শুরুর বিষয়ে শুনানির কথা রয়েছে। জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ অস্বীকার করে আসা মায়ানমার বলছে, সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় আইসিসি‘র এই অভিযান তদন্তের অধিকার নেই। এর পরিবর্তে তারা নিজেদের গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে। তবে আইসিসিতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গোদের ওপর সংঘটিত অপরাধে তদন্তের অধিকার আদালতের রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক সরকার এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে এধরনের উচচ পর্যায়ের বৈঠক তাদের ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি বিষয়ে মতপার্থক্য নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গত নভেম্বরে মায়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের তরফ থেকে আট হাজার শরণার্থীর তালিকা দেওয়া হলেও মায়ানমার এক হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়। তবে এখনও কেউ ফেরত যায়নি। রোহিঙ্গারা মায়ানমারের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্ব, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া গ্রামের ক্ষতিপূরণ এবং কৃষিভূমিতে অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছে। প্রত্যাবাসন দেরি হওয়ায় বাংলাদেশ এবং মায়ানমার পরস্পরকে দায়ী করছে।

মায়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের নতুন বিশেষ দূত সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ক্রিস্টিন শ্রানার বার্গেনার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য খুব দ্রুত দেশটি সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।