আ.লীগ জোটের নির্বাচন,১৭০ আসন চায় শরিকরা

স্টাফ রিপোর্টার : আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে আগ্রহী। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলো আগে ভাগেই আসন ভাগাভাগির বিষয়টি সারতে চায়।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তবে জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে। সে ক্ষেত্রে শরিকরা আওয়ামী লীগের কাছে তাদের যে দাবি তা মিটালে মননায়োন বঞ্চিত হবে অনেকে। আওয়ামী লীগের প্রায় একশ এমপি প্রার্থী মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। তবে শরিকদের এত আসনের দাবী পুরন হবে কিনা সে বিষয়েও অনেকের আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, শরিকরা ১৭০টি আসন চাইলেও এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো কথা বলা হয়নি। তবে শরিকদের দাবী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী নির্বাচনে অন্তত ১৫টি আসনে জোটের মনোনয়নের নিশ্চয়তা চাইছে। দলের সভাপতি রাশেদ খান মেননের ঢাকা- ৮ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার রাজশাহী- ২ আসনসহ বর্তমান সংসদের নির্বাচিত দলীয় ছয় এমপির আসন তাদের প্রত্যাশায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

একইভাবে জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু কুষ্টিয়া- ২ ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের ফেনী-১ আসনসহ ১৫টি আসন চাইছে দলটি। জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়ার দল ১০টি আসন চায়। বর্তমানে তাদের দু’জন সংসদ সদস্য আছেন। তবে তাদের দাবি তানসেন ও সংরক্ষিত আসনের লুৎফা তাহের তাদের সঙ্গে আছে। এ দু’জন থাকলে তাদের অংশে সংসদ সদস্য আছেন চার জন।

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পিরোজপুর- ২ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের মাদারীপুর- ৩ আসনসহ ৫টি, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর চট্টগ্রাম- ২ আসনসহ ১৫টি আসনের দাবি তুলেছেন । জোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার চট্টগ্রাম- ১ আসনসহ অন্তত ৬টি আসন চায় তার দল।

গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী সিলেট- ১ আসনসহ ১০টির বেশি আসনে মনোনয়নের নিশ্চয়তা চায়। কমিউনিস্ট কেন্দ্র চাইছে দলের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসীত বরণ রায়ের জন্য দুইটি আসন। এছাড়া ন্যাপ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং বাসদসহ শরিক অন্য দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে ১০টি আসন আশা করছে আওয়ামী লীগের কাছে।

এরশাদের জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের কাছে এবার ৭০টি আসন এবং ১০টি মন্ত্রণালয় দাবি করবে।

১৪ দলীয় জোটের শরিক দল গণতন্ত্রী পার্টির দাবি এবার ১০টি

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসীত বরণ রায় গোপালগঞ্জ-২ কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খানসহ পার্টির আরও কয়েকজন নির্বাচন করতে চান।

তবে শরিকরা যত আসনই চাক না কেন শেষ পর্যন্ত আসন ভাগাভাগিটা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতেই থাকবে। তিনিই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। আসন ভাগাভাগির বিষয় জানতে চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, জোট ভুক্ত দল গুলো তারা তাদের মত আবদার করতেই পারে তবে জানপ্রিয়তা অনুযায়ী এবার মনোনায়ন দেয়া হবে। আর এ বিষয় সিদ্ধান্ত দিবেন আমাদের দলের সভাপতি জন নেত্রী শেখ হাসিনা। ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ বলেন, নির্বাচন কাছাকাছি এলে এ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন আওয়ামী লীগের অন্য নীতিনির্ধারকরাও।

নাসিম বলেন, এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে বলেছেন, শরিকরা চাইতে থাকুক। আলোচনা করে সিন্ধান্ত নেয়া হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন আশ্বাসের পর এখন শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছে শরিক দলগুলো।

এরই মধ্যে শরিক সব দলই আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তালিকাও তৈরি করে ফেলেছে। বেশির ভাগ দলই নিজস্ব প্রার্থীর তালিকার পাশাপাশি দরকষাকষির জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাও করে রেখেছে। জয়লাভের সম্ভাবনা বিবেচনায় এনেই এসব তালিকা করা হচ্ছে বলে দাবি শরিক দলগুলোর নেতাদের। সব মিলিয়ে ১৪ দলের শরিকরা আগামী নির্বাচনে ১০০টি আসনের নিশ্চয়তা চাইছে আওয়ামী লীগের কাছে। গেল নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে মাত্র ১৬টি আসনে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশনের হিসাব মতে, ৪১টি দল নিবন্ধিত। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও এনডিপির নিবন্ধন স্থগিত আছে। বাকি ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ জোটে আটটি, বিএনপি জোটে আটটি এবং জাতীয় পার্টির জোটে দুইটিসহ ১৮টি দল জোটভুক্ত আছে। আর জোটভুক্ত নয় এমন ২১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কদর এখন বেড়েছে। তারা হিসাব কষছে কোন দিকে গেলে লাভবান হবে। এজন্য তারা ভেতরে ভেতরে কথা চালাচালি শুরু করেছে।