বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আমরা ঘি খাই না: তথ্যমন্ত্রী

: ‘বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আমরা ঘি খাই না। আমরা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যই দীর্ঘমেয়াদী এ ঋণ নিয়ে থাকি’ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

শুক্রবার বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন জাসদ একাংশের সভাপতি। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাজেটের বিভিন্ন দিক ও আকার নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বড় বড় প্রকল্পগুলোর জন্য বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে এ অবস্থায় বাজেটের বাস্তবায়ন সম্ভব কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু মাইক নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে জাসদ সভাপতি বলেন, আপনারা এখন দেশের যেখানেই যাবেন দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে পারবেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পর্যাপ্ত ছবি নিতে পারবেন। যে দেশ একসময় তলাবিহীন ঝুড়ির খেতাব পেয়েছে, সেই দেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে আমরা ঘি খেয়ে টাকা নষ্ট করছি না। উন্নয়ন করছি। শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নে বিশ্বাসী।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।

এ ছাড়া মঞ্চের সামনে দর্শক গ্যালারিতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াসহ সরকারের পদস্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআরবহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে নয় হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।