ঈদ বাজার যেন জনসমুদ্র

রাজধানীর নিউ মার্কেট, চাঁদনি চক, গাউছিয়া, এলিফেন্ট রোড, হকার্স মার্কেটের সামনে ফুটপার থেকে শুরু করে মূল দোকানের ভেতরে কোথাও যেন পা ফেলার জায়গা নেই। সব স্থানেই মানুষ আর মানুষ। যেন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে ঈদ বাজার।

ঈদের কেনাকাটায় সকাল থেকে মানুষের ভিড় ছিলই কিন্তু দুপুরের পর থেকে ক্রেতা উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। ফলে মার্কেটসহ আশেপাশের স্থানগুলো রূপ নেয় জনসমুদ্রে। দৃশ্যটা এমন যেন সাবাই এসেছে ঈদ বাজারে।

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এরমধ্যে শুক্রবার (৮ জুন) সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় ক্রেতাদের চাপে বিক্রেতাদেরও দম ফেলার সময় নেই।

রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ধানমন্ডি হকার্স, রাপা প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, মেট্রো শপিংমল, এলিফেন্ট রোডসহ আশেপাশের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় ক্রেতাদের ভিড় সর্বোচ্চ। গাউছিয়া, চাঁদনি চক, নিউমার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এ ছাড়া চাঁদনি চক মার্কেটে তো পা রাখার জায়গায় নেই। ক্রেতা আসছেন, থরে থরে সাজানো বাহারি সব ড্রেস দেখছেন, কিনছেন।

এদিকে মার্কেটের পাশ দিয়ে যাওয়া কাস্টমারদের আকৃষ্ট করতে ভেসে আসছে বিক্রয় কর্মীদের হাঁকডাক। বাহারি নিত্য নতুন ডিজাইনের পাশাপাশি দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় চাঁদনি চকে ক্রেতাদের উপস্থিতি বছরজুড়েই থাকে। আর ঈদে তো কথায় নেই।

জানা গেছে, চাঁদনি চকে জর্জেটের ওপর কাজ করা থ্রি পিস, বুটিকস আইটেমের থ্রি পিস, লন, ভয়েল ও শার্টিনের থ্রি-পিসের চাহিদা বেশি।

চাঁদনি চকে রফিক টেক্সটাইলের হায়দার হোসেন ব্যস্ত ক্রেতাদের চাহিদার পোশাক দেখাতে। দামে মিলে গেলেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন কাউন্টারে। সকাল থেকে সমান্য অবসরও পাননি তিনি।

কাজের ফাঁকে কথা বলেন রমজান শুরুর পর ঈদ বাজারে আজ সর্বোচ্চ ভিড়। একদিকে ঈদ প্রায় আসন্ন তার উপর শুক্রবার হওয়ায় ক্রেতাদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি। যে কারণে বিক্রিও ভালো। সকালের তুলনায় দুপুরের পর থেকে কাস্টমার বেড়েছে। সন্ধ্যার পর আরও বাড়বে। আশা করা যায় ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিনই কাস্টমারদের এ ভিড় থাকবে।

চাঁদনি চকে ড্রেস কেনা শেষে গাউছিয়া, নিউমার্কেট থেকে অর্নামেন্টস আর ব্যাগ কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী মনিরা খাতুন।

তিনি বলেন, শুধু নিজের কেনাকাটাই নয় ঈদের সময় আত্মীয় স্বজন সবার জন্যই কেনাকাটা থাকে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ার সবাই মার্কেটে আসায় অতিরিক্ত ভিড় হয়েছে। ফলে কোনো কিছুই ভালো করে দেখে কেনার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া এসব মার্কেটে তুলনামূলক দাম কম পাওয়া যায়।

ঢাকা কলেজের বিপরীতে ধানমন্ডি হকার্স শাড়ির মার্কেটেও ছিল ক্রেতা সাধারণের উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি দোকানের বিক্রেতারা ব্যস্ত।

এ মার্কেটের শাড়ি ঘরের ম্যানেজার সোবহান তালুকদার বলেন, মানসম্মত, বাহারি ডিজাইনের সব শাড়ি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। তাই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতারা এখানে আসেন।

চাঁদনি চক, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, এলিফেন্ট রোড, হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে ভিড় দেখা গেলেও সে তুলনায় নিউমার্কেটে ছেলেদের পোশাকের দোকানে তেমন ভিড় ছিল না। একই চিত্র পাশের চন্দ্রিমা মার্কেটেও।

এ বিষয়ে নিউমার্কেটের ওয়ান ক্লাবের দোকানি ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট প্যান্ট কেনার অসংখ্য মার্কেট রয়েছে। যে কারণে এক জায়গায় সব সময় ক্রেতাদের ভিড় হয় না। ছেলেরা যে কোনো মার্কেটে যায় আর কিনে ফেলে।