চলতি বাজেট ধোকাবাজির লুটপাটের: শামসুজ্জামান দুদু

 ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তথাকথিত অর্থমন্ত্রীর পেশ করা বাজেট সম্পূর্ণ ধোকাবাজির ও লুটপাটের বাজেট বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত বছর প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার কম বাজেট ছিল। এবছর এটা বাড়িয়ে বৃহৎ বাজেটের নাম করে আসলে সরকার তাদের মূল লক্ষ্য লুটপাট হাসিল করতে চায়। এজন্য এ বাজেট সাধারণ মানুষের কাজে আসবে- এমনটি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) রাজধানীর শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

IFrame

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই অবৈধ সরকার ৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্প শুরু করেছিল। এখন সম্ভবত ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আসলে তাদের মূল লক্ষ্য হলো লুটপাট করা। এটা যখন (পদ্মা সেতু) শেষ হবে তখন কত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।

বর্তমান বাজেট সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে অফিসিয়ালি বিবৃতি দেয়া হবে বলেও জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

সরকার কথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে দুদু বলেন, বর্তমান দেশের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। ঈদে ঘর ফেরত মানুষের দুর্দশার শেষ নেই। চট্টগ্রাম রুটে ১৮ ঘণ্টা কখনও কখনও তারও বেশি সময় জ্যামে পড়ে থাকতে হয়। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী যা যা বলছেন তার কোনোটারই ঠিক নেই। দেশের রাস্তাঘাটের আজ ভয়ানক দুর্দশা।

সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সরকার এর আগে জঙ্গি দমনের নাম করে সাধারণ নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। একই কায়দায় বর্তমানে মাদক নির্মূলের নামে যখন-তখন যাকে-তাকে ধরে নিয়ে ‘বিচারবহির্ভূতভাবে খুন করছে ভোটারবিহীন সরকার। এখানে সংবিধান মানা হচ্ছে না। সংবিধানের কোনও জায়গায় বিচারের আগে পুলিশ-র‌্যাব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মানুষ হত্যার এখতিয়ার দেয়া হয়নি। অথচ বর্তমান সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে সেটিই করছে।

তিনি আরও বলেন, এতোগুলো বিচারবর্হিভূত হত্যার পরও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দম্ভের সঙ্গে কথা বলছেন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এভাবে মানুষ হত্যা করে কেউ কথা বলতে পারে না। আর যদি বলে তবে তাদের জায়গা কারাগারে হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীত্ব থাকার তো কথাই না। কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশকে দিয়ে এভাবে মানুষ খুন করা নজিরবিহীন, যেটি আমাদের দেশে আজ অহরহ হচ্ছে।

দেশের এই সংকটকালে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হোন। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আজ কারাবন্দি। তাঁকে মুক্ত করতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলেতে হবে। তাঁকে (খালেদা) ছাড়া এদেশে কোনও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। সরকার যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেনে নির্বাচনের আগেই দেশনেত্রী মুক্ত হয়ে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবেন। এবং আগামী ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বগুড়া জেলা বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ও জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো.আনোয়ার প্রমুখ।