দ্রব্যমূল্য, টিসিবি’র হিসাব কী বলছে

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন- গত ১০ বছরে জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তবে বাজার পরিস্থিতি বলছে ১০ বছরে কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত হয়েছে। চালসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম সব রেকর্ড ভেঙেছে। খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসেবে নিত্যপণ্যের দাম প্রতি বছরই বেড়েছে। সর্বশেষ গত বছরের চেয়ে চলতি বছরের এ পর্যন্ত বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ন্যূনতম দেড় থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবি’র তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের জুন মাসের তুলনায় এখনো সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ বেশি দামে চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে চালের কেজি সর্বনিম্ন ৩৮ থেকে
সর্বোচ্চ ৬৬ টাকা। এক বছর আগে ছিল সর্বনিম্ন ৪৫ থেকে ৫৬ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৮.১৮ শতাংশ বেশি। গত বছরের জুন মাসের তুলনায় এখনো সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি দামে আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে আটার কেজি ২৬ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা। এক বছর আগে ছিল ২৪ থেকে ৩২ টাকা। আর বর্তমানে ময়দার কেজি ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৩৪ থেকে ৪২ টাকা। গত বছরের তুলনায় ৯.৭৬ শতাংশ বেশি দামে ময়দা বিক্রি হচ্ছে।
গত বছরের জুন মাসের তুলনায় এখন ৩ শতাংশ বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে তেলের লিটার (বোতলজাত) ১০৪ থেকে ১০৮ টাকা। এক বছর আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৬ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২.৯১ শতাংশ বেশি।
টিসিবি’র তথ্য মতে, গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ শতাংশ বেশি দামে। বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গত বছর ছিল ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি। দাম বেড়েছে ২৮.৫৭ শতাংশ। পিয়াজ এখনো গত বছরের চেয়ে প্রতি কেজি ৩১ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। বর্তমানে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। গত বছর ছিল ২০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। এদিকে সরকারি সংস্থার এই মূল্য তালিকা ও বাজার পর্যবেক্ষণের চেয়ে বাস্তবতা আরো ভিন্ন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন পণ্য টিসিবি’র দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আগের বছরের চেয়ে এবারের মূল্যের ফারাক ও টিসিবি’র দেয়া তথ্যের চেয়ে বেশি।