আ.লীগ আবারও ভোটারবিহীন নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী

 ‘আওয়ামী লীগ আবারও একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। সে জন্যই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় আটকে রেখেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সে ইচ্ছা পূরণ হবে না। মানুষ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে বদ্ধপরিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেনন, জনগণের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে তার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই।

দেশে গণতন্ত্রের লেশ মাত্র নেই মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। গণতন্ত্র এখন ক্রসফয়ারতন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মানুষের বিচার পাবার অধিকারও এখন নেই।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারত থেকে এসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা ভারতকে যা দিয়েছি তা ভারত সারা জীবন মনে রাখবে। আমরা কিন্তু তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি, আমরা কোনো প্রতিদান চাই না।’ তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের জানার অধিকার আছে যে ভারতের কাছে কী প্রতিদান চাওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে কী আশ্বাস পাওয়া গেছে। বছরখানেক আগেও প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার অনেকগুলো চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একগুঁয়েমির অজুহাত দেখিয়ে তিস্তার পানির কোনো প্রাপ্তিই ঘটেনি।’

বিএনপি নেতা আরো বলেন, ‘ভারতকে উপলব্ধি করতে হবে যে তারা যদি এ দেশের জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের পক্ষে অনধিকার হস্তক্ষেপ করে, তাতে জনগণের মনে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণই হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেই জনগণের কাছে বিবেচিত হবে। আর বাংলাদেশের প্রতি ভারতের এই নীতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে শুধু ভারতের পশ্চিমে নয়, পূর্বে স্বাধীন বাংলাদেশেও কাশ্মীরের মতো পরিস্থিতির সম্ভাবনা সৃষ্টি করা ভারতের জন্য কি উচিত হবে? মনে রাখা দরকার, মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নিলে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা বলেন, ‘ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে বাংলাভাষীদের ঠেলে দেওয়ার টালবাহানা, তিস্তার আশ্বাস ঝুলে থাকা, রোহিঙ্গা সংকটে ভারতের সহানুভূতি না পাওয়া—এভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হয় না। ভারতের পত্রিকায় যে প্রতিদানের কথা বলা হয়েছে, তা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর ইঙ্গিত।’

গত ১০ বছরে দ্রব্যমূল বাড়েনি- অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রবী ঠাকুরের ওই গানটা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে- কেউ কখনো খুঁজে কি পায় স্বপ্নলোকের চাবি। এই স্বপ্নলোকের চাবি আছে আপনার অর্থমন্ত্রীর কাছে। তাই এই ধরণের উদ্ভট কথাবার্তা বলেন, আর কি।’

রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের গণতন্ত্র এখন সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, অর্থনীতিও যথেষ্ট শক্তিশালী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে শ্রেষ্ঠ তামাশা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমি বলব এগিয়ে যাচ্ছে, তবে তা পেছনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক এখন ছোট ছোট খালে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন শুধু সাইনবোর্ড আর বিলবোর্ডে শোভা পায়। দেশে সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক মিলে ৮৫ হাজার কিলোমিটার সড়কে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। সড়কের খানাখন্দ আর দুর্ভোগের আশঙ্কায় লাখ লাখ মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারবে কি না চিন্তিত। তারা বিকল্পভাবে বাড়ি যেতে ট্রেনের টিকেটের পেছনে ছুটছে, সেখানেও পাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত টিকেট।’

দেশ অগ্রগতির দিকে নয়, ‘অন্ধকারের অতল গহ্বরে’ তলিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য তিনি বলেছেন, ‘অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একেবারেই এটা ডাহ্যা তামাশা এবং মস্করা। এটা যে একেবারে পেছন দিকের অন্ধকারের অতলে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা জনগণ জানে। নিশ্চয় অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী সেটা বলবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, বেলাল আহমেদ, সামসুজ্জামান সুরুজ, আমিনুল ইসলাম, উলাম দলের এম এ মালেক,শাহ নেসারুল হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।