সময়ের আগেই আসল বর্ষাকাল!

ফুলকি ডেস্ক: বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূল পেরিয়ে চলে এসেছে মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ শনিবার জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের পূর্ব অংশ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এর ফলে খাতা-কলমের হিসাবে শুরু হয়ে গেছে বর্ষাকাল।

২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মৌসুমি বায়ু চলে এসেছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে।

বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস মিলিয়ে বর্ষাকাল। সেই হিসাবে ১ আষাঢ় শুরু হয় জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে। আর শ্রাবণ বিদায় নেয় মধ্য আগস্টে।

কিন্তু আমাদের দেশে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের কাছে বর্ষাকালের সময় হিসাবটা দ্বিগুণ। ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী, তাঁদের কাছে বর্ষাকাল শুরু হয় ১ জুন, শেষ হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। এই চার মাসে বাংলাদেশের মোট বৃষ্টিপাতের শতকরা ৭১ ভাগ বৃষ্টি হয়ে থাকে।

কিন্তু গত বছর ১৫ জুন এ দেশে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটলেও এ বছর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মৌসুমি বায়ু চলে এসেছে। তবে আপাতত কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর ফলে বর্ষার আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে। ঢাকার কিছু অংশে এর প্রভাবে বৃষ্টি হবে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সারা দেশেই মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটবে। মে মাসে যেভাবে বৃষ্টি হয়েছে, আপাতত জুনের প্রথম সপ্তাহে এভাবেই বৃষ্টি হবে। এরপর বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু দুটি শাখায় বিভক্ত। একটি আরব সাগরপ্রবাহ, দ্বিতীয়টি হলো বঙ্গোপসাগরপ্রবাহ। বঙ্গোপসাগরের মৌসুমি বায়ুপ্রবাহটি বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল, হিমালয় পর্বতমালার দক্ষিণাংশের পাহাড়ি ঢাল ও পাদদেশীয় অঞ্চলের আবহাওয়ার প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি বায়ু প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বহন করে আনে। এই বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশ, ভারতসহ এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি হয়।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে টানা এক থেকে তিন দিন, কখনো কখনো টানা পাঁচ দিন থেকে সাত দিনও বৃষ্টি হয়ে থাকে। এর ফলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।