জোট গঠনের রাজনীতিকে ইতিবাচক দেখছে আ.লীগ

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে আওয়ামী লীগ। এ জোট গঠন নিজেদের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দলটি। তবে তারা এটাও ধরে নিয়েছেন, জোট গঠনের এ রাজনীতি বেশি দূর গড়াবে না।

ছোট দলগুলোর জোট গঠনের তৎপরতা অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১২ সাল থেকেই দলগুলোর এমন তৎপরতা ছিল। তবে কখনও তাতে গতি আসে; কখনও থমকে পড়ে। নির্বাচনের এই বছর জোট গঠন প্রক্রিয়াটি ভীষণ গতি পেয়েছে। রমজান মাসকে ঘিরে ইফতার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই তৎপরতা এখন সবার নজরে। এছাড়া, ছোট দলের নেতারা তাদের বাসায়ও প্রায়ই নিজেরা বসছেন। ইতোমধ্যে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাসদ (রব) আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমদুর রহমান মান্না যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোটও গঠন করেছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহলের বিশ্বাস, তোড়জোড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত এসব জোট দিয়ে কার্যসম্পাদন করতে পারবে না ছোট দলগুলো। ফলে তাদের জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনই কিছু ভেবে রাখতে নারাজ ক্ষমতাসীনরা। জোট গঠন নিয়ে এখনই ভেবে সময় নষ্ট করার পক্ষে নন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। জোট গঠন বিষয়ে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘জোট তো হয়েই গেছে। এই নিয়ে খুব শিগগিরই আমরা গণমাধ্যমে আসব।’ আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘২ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আগামী জাতীয় নির্বাচন ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওখানে এই সম্ভাবনাময় জোটের অগ্রগতি সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন।’ তবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জোট গঠনের প্রক্রিয়া কতদূর গিয়ে ঠেকে তা তারা দেখবেন, তারপর এ নিয়ে কী করা যায়, তা ভাবা যাবে। দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এ বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন। আওয়ামী লীগ চায় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ যত বাড়ানো যায়। বিভিন্ন দল জোট করে জোটগতভাবে বা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে এটি নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করবে। এ হিসেবে এটি ইতিবাচক। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা আরও বলেন, জোট গঠনের তোড়জোড় নির্বাচন ঘনিয়ে এলে শুরু হয়। এতে কিছু নেতা আছেন, যারা জনগণের কাছে নিজেদের মূল্য যাচাই করে নেন। আবার অনেক রাজনীতিক আছেন, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে নিজেরা আর্থিকভাবে লাভবান হন। অনেকেই অনেক এজেন্ডা নিয়েও নামেন। এবারও তেমন কিছু যে একেবারে নেই সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে তারা দাবি করেন, সত্যিকার অর্থে ছোট ছোট দলগুলো মিলেমিশে বড় হয়ে একটা কিছু করলে মন্দ হিসেবে নেবে না আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গত বুধবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন–বিন্দু বিন্দু করে সিন্ধু হলে ক্ষতি কী তাতে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছোট দলগুলো জোট গঠন করে বড় হতে পারলে এটা ইতিবাচক। আমাদের নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, বিন্দু বিন্দু করেই তো সিন্ধু হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বাগত জানাই জোট গঠনের তৎপরতাকে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘জোট গঠনের তোড়জোড় অতীতেও অনেকবার হতে দেখেছি আমরা। এখনও দেখছি। শেষ পর্যন্ত তো অশ্বডিম্ব!’