ক্যামিকেল নিয়ে পুষ্টিবিদ আর বিশেষজ্ঞদের দোটানা বক্তব্যে বিভ্রান্ত সাধারণ ভোক্তা

অপরিপক্ব ফল পাকানো হচ্ছে কার্বাইড-ইথোপেন ব্যবহার করে, এমন অভিযোগে বিগত কয়েকদিনে রাজধানীতে ধ্বংস করা হয় কয়েক হাজার মণ আম। পুষ্টিবিদরা রাসায়নিক মেশানো আম স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ বললেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। ফল খাওয়া নিয়ে এমন দোটানা সমস্যার আশু সমাধান চান ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনগুলো। এজন্য সব বিভাগের সমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ তাদের। ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজশাহীর আম কেটে দেখেছে। তারপর কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই আমাদের আম ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার আম নিয়ে গেছে। এখন ব্যবসায় চালানোটাই মুশকিল হয়ে গেছে।

পুষ্টিবিদরা বরাবরই ইথোপেন ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে অভয় দিয়ে প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রিপোর্ট। যেখানে দেখা যায়, টমেটো, কলা, আম, পেঁপে সহ বেশকিছু ফলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পিপিএম ইথোফেন ব্যবহারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত ২ পিপিএম এর নিচে চলে আসে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বলেন, এগ্রিকালচার রিসার্চ কাউন্সিলের ২০১৪ সালের স্ট্যাডি আছে। তারা প্রায় ১০ হাজার পিপিএম পর্যন্ত প্রয়োগ করে দেখেছে। তারপর দেখা গেছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটা ২ পিপিএম-এ চলে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ফারুক বলেন, কেনো অপ-বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করছেন? এটা তো বিজ্ঞান না, অপ-বিজ্ঞান। যে সমস্ত লোক বলছেন, এটা নিরাপদ তারা নিন্ডয়ই কারও না কারও পক্ষে কাজ করছেন।

পুষ্টিবিদ আর বিশেষজ্ঞদের এমন দোটানা বক্তব্যে বিভ্রান্ত ভোক্তা সাধারণ। তাই সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ ক্যাবের। ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, এই বিভ্রান্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি।

দেশে প্রতিবছর উৎপাদিত হয় প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ মেট্রিক টন ফল। মধুমাসের এই রসালো ফল সৃষ্টিকর্তার অপার দান। তবে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর অসাবধানতায়, ভোক্তা মনে বিরাজ করে ক্যামিকেল আতঙ্ক। তাই স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সচেতন হতে হবে ভোক্তার নিজেকেই।