আশুলিয়ায় নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার ২ খুনী গ্রফতার

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়া থেকে রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার হত্যায় জড়িত এজাহার নামীয় ২ আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে কল্পনা চাকমা অপহরণের ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে চিহ্নিত অপহরণকারী লে. ফেরদৌস গং এর বিচারের দাবি সম্বলিত পাহাড় সমতলে নারীর সম্ভ্রম, জীবনের নিরাপত্তা, বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা, সেনা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আহবানে লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টায় আশুলিয়ার বুড়িবাজার এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের অবস্থান জানার পর নানিয়ারচর থানার বার্তা পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। গ্রেফতারকৃতরা হলো-রিপন চাকমা (৩৬) ও খানতোময় ত্রিপুরা (৩৩)। তারা ইউপিডিএফ’র সদস্য।
এ ব্যাপারে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যায় জড়িত এজাহারভুক্ত আসামী গ্রেফতারকৃতরা। নানিয়ারচর থানার বার্তা পেয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই থানার পুলিশ ইতোমধ্যে ঢাকার আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন উল্লেখিত আসামীদের নেয়ার জন্য। তাদের নিকট বেশকিছু লিফলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃতদের সম্পর্কে উইমেন্স ফেডারেশনের ৫ মহিলা সদস্য বলেন, গ্রেফতারকৃতরা কেউ শক্তিমান চাকমা হত্যার সাথে জড়িত নন। ভুল ইনফরমেশনে তাদেরকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে থানায় নিয়ে এসেছে।
লিফলেটের ব্যাপারে তারা জানায়, কল্পনা চাকমা অপহরণের ২২ বছর অতিবাহিত হয়েছে। আগামী ১২ জুন কল্পনা চাকমাকে অপরণের বছরপূর্তি। এজন্য এ লিফলেট বিতরণ চলছে। গ্রেফতারকৃতরাসহ তারা সকলে এ লিফলেট বিতরণ করতে ঢাকায় এসেছেন। ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তাদের এ লিফলেট বিতরণে বাঁধা দিয়েছে একটি সংস্কারপন্থি গ্রুপ। তারা সরকারের দালাল হিসেবে চিহ্নিত। এরাই বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা রিপন চাকমা ও খানতোময় ত্রিপুরাকে গ্রেফতার করতে পুলিশকে সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেন। সঙ্গীয় হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর ৫ জন হলো-নিরূপা দেওয়ান, মন্তি চাকমা, দয়াচনা চাকমা, অবনিকা চাকমা ও চৈতালি চাকমা। তারা গ্রেফতারকৃতদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য থানায় অবস্থান করছেন। তাদের দাবিগুলো হলো-অবিলম্বে চিহ্নিত অপহরণকারি লে. ফেরদৌস ও তার গং এর বিচার কর, তনুর ধর্ষক-খুনিদেও ফাঁসি দাও, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনা সেল্টার প্রত্যাহার কর, অপারেশন উত্তরণের নামে সেনা শাসন তুলে নাও, অবিলম্বে মিঠুনসহ ১৫ নেতাকর্মীর খুনি সেনাসৃষ্ট নব্যমুখোশবাহিনী ভেঙ্গে দাও, মন্টিদয়াসনাকে চিহ্নিত অপহরণকারী নব্য মুখোশবাহিনী ও সহযোগী জেএসএস লারমা গ্রুপের দুর্বৃত্তদের সাজা দাও, ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত খীসা ও অন্যান্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার কর, করতে হবে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে নারী নির্যাতন বন্ধ কর করতে হবে, পাহাড়ে অভিযানের নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানী বন্ধ করতে হবে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক ডিওয়াইএফ ও পিসিপি নেতা সুকৃতি চাকমা, জিকো চাকমা ও ক্লান্ত চাকমাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, খাগড়াছড়িতে সেনা সহায়তায় দিনে দুপুরে খবংপুজ্জা-স্বণির্ভর বাজার ও নারাঙহিয়ায় চাঁদাবাজিতে লিপ্ত নব্য মুখোশবাহিনীর হোতাদের গ্রেফতার করতে হবে।