নিবন্ধন পাচ্ছে না নতুন কোন রাজনৈতিক দল!

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন কোন দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাবে কি পাবে না এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, নতুন কোনো দলের নিবন্ধন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ নিবন্ধনের সব শর্ত পূরণ করেছে এমন কোনো নতুন দলেরই খোঁজ পাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বর্তমানে ৪০টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। নতুন দল পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেসব শর্ত অনুযায়ী নিবন্ধনযোগ্য নতুন দল পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে।

তবে নতুন দল সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও কমিটির সুপারিশ বিষয়ে কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে হলে একটি দলকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো নির্বাচনে অন্তত একটি সংসদীয় আসন পেতে হবে অথবা যে কোনো একটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে ওই আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫ শতাংশ পেতে হবে, অথবা দলের একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকতে হবে, অন্তত ২১টি প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর জেলা কমিটি থাকতে হবে এবং অন্তত ১০০ উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রামাণিক দলিল থাকতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, তিনটির মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হলেই নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর প্রথমবার ৩৮টি দল নিবন্ধিত হয়। পরে নবম সংসদে দুটি ও দশম সংসদে দুটি দল নিবন্ধিত হয়। পরবর্তীকালে বাতিল হয় দুটি দলের নিবন্ধন। এবার ৭৬টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে ১৯টি দল বাছাইয়ে ও ইসির তাগিদের পর দলিলাদি না দেওয়ায় ১১টি দল বাদ পড়ে। মে মাসে বাকি দলগুলোর আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ইসির নিবন্ধন যাচাই-বাছাই কমিটি। অন্তত চারটি উপকমিটি ৪৬টি দলের গঠনতন্ত্র, দলিলাদি ও আনুষঙ্গিক উপাত্তের খোঁজখবর নেন, সঠিকতা যাচাই করে। ইসির উপসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কাগজপত্রই ঠিক নেই অধিকাংশ দলের। কোনো দলকে নিবন্ধনযোগ্য বলে সুপারিশ করতে পারছি না।

নিবন্ধন কার্যক্রমের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইসির উপসচিব আবদুল হালিম খান বলেন, আমরা কাজ গুছিয়ে রেখেছি। কমিশনের অনুমোদন পেলেই রোববার বা কয়েকদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের তা জানাতে পারব। সংসদ নির্বাচনের অন্তত ছয় মাস আগেই নতুন দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করার কথা। সেক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহেই নিবন্ধন অযোগ্য দলগুলোকে চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিবন্ধনযোগ্য হলে তা নিয়েও আপত্তি ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন করে গেজেট করতে হবে ইসিকে।

সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ইসি সচিবালয়ের নিবন্ধন বাছাই কমিটি নিবন্ধন অযোগ্য দলের জন্য চিঠি প্রস্তত করে রেখেছে সেখানে বলা হচ্ছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দল প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় নিবন্ধন অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। বিষয়টি দলকে অবহিত করে চিঠি দেবে ইসি।

তবে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমার দল তো নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। আমাদের দলকে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য নির্বাচন কমিশন যা চেয়েছে সেসব কাগজ আমরা দিয়েছি। কিন্তু তার কত অগ্রগতি হয়েছে সেটা জানতে গেলে নির্বাচন কমিশন বিরক্ত হয়।