সাভার পৌর এলাকায় মাদক ব্যবসা চলছেই, প্রশাসন নীরব

স্টাফ রিপোর্টার : মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপি সাড়াশি অভিযান ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ, পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)সহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নেমেছে। এ সাড়াশি অভিযানে দেশের শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এদেরমধ্যে ৩০ মে রাতে সাভার পৌর এলাকার মজিদপুর মহল্লার মাদক সম্রাট আতাউর রহমান আতা র‌্যাবের সাথে বন্ধুকযুদ্ধে  রাজধানীর ভাষানটেক এলাকায় নিহত হন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ইয়াবা, ফেন্সিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার ও গাঁজার মতো মাদক দ্রব্য কেনা-বেচা হচ্ছে। পৌর এলাকায় সর্বত্র ছড়িয়ে যাচ্ছে মাদকের ব্যবহার। সমাজের বিত্তবান পরিবারের যুবক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের পেশাজীবীরাও পিছিয়ে নেই মাদক গ্রহণ থেকে। কিন্তু বিশেষ অভিযানের সময়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ভূমিকাই চোখে পড়ে না মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী ও অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, সাভার পৌর এলাকায় শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। এরমধ্যে সাভারের ইমান্দিপুর, মজিদপুর, ব্যাংক কলোনি, উলাইল, কাঁচাবাজার, নামাবাজার, রাজাশন, বক্তারপুর বেদেপল্লী, আনন্দপুর, কর্ণপাড়া, নামাগেন্ডা, ব্যাংক টাউন, ভাটপাড়া, জালেশ্বর, রেডিও কলোনী, অমরপুর, বাড্ডা ভাটপাড়া, আইচানোয়াদ্দা, সিআরপি, আড়াপাড়া, ডগরমোড়া, জামশিংসহ বেশ কয়েকটি মাদকের স্পট উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বাজার রোডের একটি ধানের চাতালে ও নামাবাজার ফেন্সি সুপার মার্কেটে মাদকের কারবার চলে বলে জানা গেছে।

মাদকের এসব স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে, মজিদপুর এলাকার ফুলির ছেলে রাজা (৩৫), রাজু ওরফে রাজু চাকমা, সাইদুল (৩০), ইমান্দিপুরের নসু মিয়ার ছেলে রিপন, পচাঁ মিয়ার মেয়ের জামাই স্বপন শরীফ, বাবুল (বরিশালের বাবুল), সাইফুল মিয়ার ছেলে সাগর, লতিফ মিয়ার ছেলে বাশার, মৃত আকাল আলীর ছেলে তাহের আলী, শুভ, শাহীনের ছেলে বাবু, ইমান্দিপুর চৌরাস্তার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে মিক, ইমান্দিপুর কবরস্থানের রমি সিদ্দিক, ছোটবলিমেহের একসময়ের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মৃত আলমগীর ও কহির গোটা পরিবার এখন মাদক ব্যবসায়ী। উলাইলে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী কালু। এছাড়া জালেশ্বরের আলামিনের মা, খালা। তাদের সহায়তা করছেন মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী শাহিনুর।

এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সাভার পৌর জামশিং ও ভাটপাড়া এলাকায় মাদক বিক্রি করছেন রোহিঙ্গা রহমান ও তার ভাই। নামা বাজার কাঠপট্রি এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেল ওরফে মুছা ফকির, নয়ন, পরান, সবুজ, কাজী মোকমাপাড়ার হত্যা ও ছিনতাই মামলার আসামী রানা মিয়া, বাদশা মিয়ার ছেলে শাহীন। আড়াপাড়া এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী রাশেদ, জুলহাস, একাধিক হত্যা মামলার আসামী মজিবর রহমান। বক্তারপুর এলাকার একাধিক হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামী চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী মাস্তান খোকন, গাঁজা ব্যবসায়ী আফসার, বেদে পাড়ায় লাল মিয়ার বাড়ী, মিজান ড্রাইভার, ফারুক, খাটা হাসু, সান্দার সোহেল, সোহেল। বক্তারপুরে তিন রাস্তার মোড় মাদকের ডিপো হিসাবে পরিচিত।

এসব স্পটে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি করা হয়। এমনকি যৌন উত্তেজক হিসেবে ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেটও সাভারে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের বিশেষ কোনো তৎপরতা নেই। মাদকসেবীরাই এখন বাড়তি আয়ের আশায় এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। দেখা মতে অনেক মাদক ব্যবসায়ী কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ওসি মহসিনুল কাদির জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক কেনাবেচা সম্পূর্ণ বন্ধ না হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।