পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২১ সালে!

স্টাফ রিপোর্টার : পদ্মা সেতুর সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে সময় চেয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চীনের মেজর ব্রিজ কোম্পানি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হবে জানিয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। তবে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তে কোন রায় দেয় নি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

এদিকে কতদিন সময় বাড়ানো হলে কাজ শেষ করা যাবে এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কারণগুলো বিশ্লেষণের পাশাপাশি কাজ করছে সেতু কর্তৃপক্ষ ।

সেতুর কাজ শুরুর পর থেকে এটি গত ৩ বছর ধরে নানা বাধা, জটিলতা, চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগুচ্ছে কোটি মানুষের স্বপ্নরথ। এখন পর্যন্ত সেতুর কাজে অগ্রগতি ধরা হচ্ছে ৬০ ভাগ। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে ৪টি। কাজ চলছে আরো ১০টি পিলারের। কাজের মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। হাতে মাত্র আর ৬ মাস সময়। অথচ কাজ বাকী এখনো ৪০ ভাগ। এ অবস্থায় ঠিকাদারির দায়িত্বে থাকা চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি ৩ বার প্রস্তাব দিয়েছে মেয়াদ বাড়ানোর। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নি সেতু কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সময় চাইলেই আমরা দিয়ে দিতে পারি না। কোন কারণে সময় চাইছে তার একটা যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে। সেই প্রমাণ আমরা এখনও পাইনি।’

সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে, কাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন ২২টি পিলারের নকশা চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হয়েছে। সম্প্রতি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হাতে নতুন নকশা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য জটিলতার পাশাপাশি নকশা সমস্যাকেও মেয়াদ বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে তারা। তবে যে নকশাগুলো আগেই দেয়া আছে, সেগুলোর কাজও কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

সময় বাড়ানোর কারন ব্যাখ্যায় পদ্মা সেতুর বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘কোনো যন্ত্রপাতি বসে নেই। কাজ চলছে।’ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে ২ বছর মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও অতিরিক্ত আরো এক বছর থাকছে ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে। এখন পর্যন্ত কাজের যে অগ্রগতি তাতে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা যেকোনো ভাবেই অসম্ভব। তাই মেয়াদ বাড়াতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার।’

তবে যৌক্তিক কারণের চেয়ে একদিনও যেনো বেশি সময় না পায় সেদিকে জোর দিচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।