তিস্তা নিয়ে আর তিক্ততা চায় না সরকার

ফুলকি ডেস্ক : তিস্তার পানি নয়, বিকল্প পথে প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে এমন আভাস পাওয়া গেছে। শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, একমাত্র তিস্তার পানির হিস্যা নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আর তিক্ততা করতে চায় না সরকার। বরং প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে সরকার বাংলাদেশের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এদিকে, দুদিনের ভারত সফর শেষে বুধবার (৩০ মে) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, সেখানেও তিনি প্রয়োজনীয় পানির জন্যে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন বলে স্পষ্ট করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পানির জন্যে আমরা সবগুলো নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বসে নেই।’ এসব বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তিস্তার পানির দিকে সরকারের তেমন একটা মনোযোগ নেই।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনের যে সফর করেছেন, সেখানে তিস্তার বিষয়ে আলোচনা এগোয়নি। এ বিষয়ে সরকারও ভারতের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক সৃষ্টি করতে চায় না। বরং সম্পর্ক ঠিক রেখে কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনেই তিস্তার হিস্যা আদায়ের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে, জলাশয়, ডোবা ও পুকুর খনন করে পানির প্রয়োজন মেটানোরও চেষ্টা করে যাবে সরকার।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘তিস্তায় পানি থাকলে আমাদের দিতেই হবে। কারণ, আমরা ভাটিতে আছি।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কচলানোর কিছুই নেই। গঙ্গার পানির হিস্যা শেখ হাসিনাই আদায় করেছেন। ভারতের সঙ্গে অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের মীমাংসা তিনি করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘তিক্ততা নয়,সম্পর্ক ঠিক রেখেই হিস্যা আদায় করতে হয়।’ এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী বলেন, ‘সময়ই সব বলে দেবে।’ ভারত কি তিস্তা চুক্তি এড়িয়ে যেতে চায়? বুধবার সংবাদ সম্মেলনে রাখা এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যার কথা তুলে ধরে তিক্ততা তৈরি করতে চাই না। তিস্তা চুক্তি করতে সেখানে যাইনি। তিস্তা ব্যারাজ তো আমরা নিজেরা করেছি। ব্যারাজ করে আবার পানি-পানি করে আমরা চিল্লাচ্ছি কেন?’

তিস্তা নিয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা তো কথা দিয়েছে। ওই পানি না পেলে আমরা কি চলতে পারবো না? আমরা আমাদের নদীগুলোর ড্রেজিং করছি। পায়রা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, যমুনাÍসবকটির ড্রেজিং করছি। জলাধার খননের ব্যবস্থা করছি। বাংলাদেশজুড়ে আমরা বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ করছি।’ ‘তিস্তাচুক্তি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মমতা ব্যানার্জির বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করছে’Íসংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব কথা এখন তো জানার দরকার নেই। এটা তো তাদের বিষয়, তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করবে। বিষয়টি ওখানেই থাকতে দিন, আমাকে জিজ্ঞেস করেন কেন?’ এ সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ও তাঁর মেয়াদের মধ্যে তিস্তাচুক্তি হবে। এই আশ্বাসের ওপর বিশ্বাস করেন কিনা? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘শোনেন, আমি কারও ওপর ভরসা করে চলি না। আমার দেশের পানির ব্যবস্থা কীভাবে করতে হবে, সেটা আমি করে যাচ্ছি। আমি নদীর ড্রেজিং করছি, জলাধার তৈরি করছি।’