এবার যুদ্ধ করবে রোবট সেনারা!

প্রযুক্তির বিকাশ ও অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীতে আসছে নতুনত্ব। নতুন খবর, সেনাবাহিনীতে পৃথক রোবট সেনা আনছে দেশটি।

এজন্য আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র এসব রোবট বা যন্ত্রসেনা নির্মাণে ১০০ কোটি ডলার খরচ করবে।

সামনের দিনগুলোতে মানুষের বিরুদ্ধে ৭ হাজার রোবট সেনা যুদ্ধের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে সামরিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র।

সেইসাথে আগামী ৫ বছরের মধ্যে সেনাবাহিনীতে পৃথক রোবট শাখা গড়ারও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে দেশটি। যেখানে সেনাবাহিনীর সব বিভাগেই রোবট কাজ করবে। যাদের ক্যাটাগরি হবে স্বল্প ভারি, মধ্যম ও ভারি- এ তিন প্রজাতির।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, গত এপ্রিলে ভারি আকারের রোবট নির্মাণের জন্য ম্যাসাচুচেস্টের ইনডিউভর রোবোটিকস অব ছেলমসফোর্ড ও মাত্র ২৫ পাউন্ডের কম ওজনের রোবট নির্মাণে ওয়ালথামভিত্তিক কিউনেটিক নর্থ আমেরিকা কোম্পানির সঙ্গে ৪২ কোটি ৯১ লাখ ডলার মূল্যের চুক্তি করে মার্কিন সেনাবাহিনী।

চলতি বছরের মধ্যে ভারি আকারের রোবট বানানোর কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে পেন্টাগনের।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বলছে, ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে এসব রোবট সেনা মোতায়েন করা হবে।

সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে এসব সেনা মানুষ হত্যাসহ নিজেদের আত্মরক্ষায় বেশ পটু। নিজের দিকে ধেয়ে আসা বিপদকেও প্রতিহত করতে পারবে এরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক রোবট সেনা বানানো নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল।

সমালোচকরা বলছেন, এতে দেশটির সেনাবাহিনীতে মানুষের চাকরি হ্রাস পাবে। যার মাশুল দিতে হবে সেনাবাহিনীর বেশ কয়েক হাজার সদস্যকে।

এছাড়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মানব সেনা হ্রাসের বিষয়টি শক্তিধর সামরিক দেশের মর্যাদা হ্রাসের সাথে তুলনা করছেন অনেকই।

সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির পল জানিয়েছেন, রোবট সেনা যুদ্ধে নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠার আগে নীতি বা নৈতিকতার বিষয়টি উপলব্ধির সুযোগ নেই।

অন্যদিকে গত বছর জাতিসঙ্ঘের কাছে এ ধরনের রোবটিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন শতাধিক প্রযুক্তিবিদ।

যেখানে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, এ ধরনের অস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষের ওপর ব্যবহার করলে ফল হবে ভয়াবহ।

এখন পর্যন্ত ২৬টি দেশ রোবটিক অস্ত্র তৈরির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।