সোবাহানবাগ পোস্ট অফিসের বেহাল দশা, মানবেতর জীবন পোস্টম্যানের

স্টাফ রিপোর্টার : সাভার পৌর এলাকার সোবাহানবাগ পোস্ট অফিসের বেহাল দশা। নেই নিজস্ব ভবন। জড়াজীর্ণ ঘরেই কার্যক্রম চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
সাভার পোস্ট অফিসের আওতায় মাশরুম উন্নয়ন ইনিস্টিটিউটের ভিতরে ‘সোবাহানবাগ পোস্ট অফিস’ প্রায় ২০বছর ধরে টিনের ছোট্ট একটি ভাঙ্গা ঘরে কার্যক্রম চলছে। ফলে পোস্ট অফিসের মূল্যবান চিঠিপত্র, পার্সেল ডকুমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র অযতেœ অবহেলায় থাকছে সর্বদা।
এ পোস্ট অফিসে নেই জনবলও ফলে অনেকেই চাকুরীর যোগদানপত্র ও ভাইভা কার্ডও পায় না সময়মত। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে কাঁচা মেঝের ভাঙ্গা বেড়া হওয়া মূল্যবান কাগজপত্র রাখার সরঞ্জামাদীসহ চিঠি ফেলার মজবুদ ও নিরাপদ পোস্ট বক্স না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র আদান প্রদানে নিরাপদ নয়। নানাবিধ সমস্যার কারণে ডাক বিভাগের উপর নির্ভরতা হারিয়ে ফেলায় সাধারণ মানুষরা আগের মত পোস্ট অফিসগুলোতে চিঠিপত্র পাঠায় না। ঝুকে পড়ছে কুরিয়ার সার্ভিস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ফলে ডাক বিভাগের রাজস্ব মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
সরেজমিনে সাভার পৌর এলাকার সোবহানবাগ পোস্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, টিনের তৈরী ছোট্ট একটি ঘর। সেখানে চিঠির স্তুপ নিয়ে বসে রয়েছেন ষাটোর্দ্ধ পোস্টম্যান মামুনুর রশিদ। ঘরটির ভিতরেও বেহাল দশা। বাহিরে ঝোপঝাড়। ভিতরে ময়লার স্তুপ, টিনের বেড়া ভাঙ্গাচোড়া, বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় ঘরটি।
মামুনুর রশিদ জানান, এ পোস্ট অফিসে মোট তিনজন লোক কাজ করে। একজন রানার ছিল সাত্তার মুন্সি। সে গত তিন বছর আগে মারা যায়। আর পোস্ট মাস্টার সোবহানবাগ মসজিদের ইমাম।
তিনি বলেন, একাই তাকে সব কাজ করতে হয়। কাগজে কোন স্বাক্ষর প্রয়োজন হলে খবর দিলে পোস্ট মাস্টার এসে স্বাক্ষর করে দিয়ে যান।
পোস্টম্যান মামুনুর রশিদ জানান, সকাল থেকে অনেক রাত অবধি কাজ করতে হয়। ঘরে ঘরে গিয়ে চিঠি বিলি করতে হয়। প্রায় ত্রিশ বছর যাবৎ এ চাকুরীতে থাকলেও ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে পারিনি। মাত্র ২,৪০০ টাকা বেতন দিয়ে নিভু নিভু করে চলছে সংসার।
তিনি বলেন, সাভার পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে পোস্টম্যান হিসেবে চাকুরীতে যোগ দেই ১৯৮৫ সালে। প্রায় ২০ বছর যাবত সোবহানবাগ পোস্ট অফিসে পোস্টম্যান হিসেবেই কর্মরত আছি। চাকুরীর শুরুতে বেতন ছিল ২৫০ টাকা। বিভিন্ন সময় বেতন বেড়ে এখন ২,৪০০ টাকা হয়েছে।
দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে ২৪০০ টাকা বেতনে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। প্রতি মাসেই জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য মানুষের কাছে হাত পাততে হয়। তবে তিনি এক কথায় বলেন এখন ‘ভিক্ষা’ করেই চলছি।
মামুনুর রশীদ জানান, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার পরিবার। এই চাকুরী করে মরে গেলেও সরকার কিছু দেবে না। এমনকি পেনশনও নেই। বলতে পারেন, ডাক পিয়ন মানে বেঁচে থেকেও মরে যাওয়া একজন সরকারী কর্মচারী।
আগে চিঠি হতো অনেক, বিলি করতে গিয়ে অনেকেই খুশি হয়ে ১০/২০ টাকা দিত। এতে প্রতিদিন ভালই রোজগার হতো। এখন গড়ে ২০/৩০টা চিঠি আসে। বিলি করতে গেলে কেউ একটাকাও দেয় না। অনেক সময় চেয়ে ১০/২০ টাকা নিয়ে আসি।
সোবহানবাগ পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার মাজহারুল ইসলাম জানান, তার বেতন ২৫০০ টাকা। তাই পাশাপাশি তিনি মসজিদের ইমামতি করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (মাশরুম উন্নয়ন ইনিস্টিটিউট) উপ-পরিচালক নিরোদ চন্দ্র সরকার বলেন, পোস্ট অফিস সরকারী প্রতিষ্ঠান আর মাশরুম উন্নয়ন ইনিস্টিটিউটও সরকারী প্রতিষ্ঠান। তাই সরকার এই জায়গার এক কোনে পোস্ট অফিস চালু করেছে। এটার ভাল মন্দের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।