সাবধান! সাপে কামড়ালে এই কাজগুলো ভুলেও করবেন না

সর্পদংশন আমাদের দেশে এক জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় আট হাজার মানুষ সর্পদংশনের শিকার হন।

যদিও আধুনিককালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সর্পদংশনের চিকিৎসা করা হয়।

তথাপি আমাদের জনসাধারণের ঐতিহ্যগত লোক চিকিৎসার প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস ও পাশাপাশি চিকিৎসা পেশায় জড়িতদের সর্পদংশনের বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে সর্পদংশনের শিকার প্রায় ২০ শতাংশ লোকই মৃত্যুবরণ করেন।

অথচ সর্পদংশনের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সর্পদংশনের বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার সাথে পরিচিত করার মাধ্যমে এই মৃত্যুর হার অনেকাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা নিম্নোক্ত করনীয় ও বর্জনীয়গুলো বিষয়াবলী পরামর্শ আকারে দিয়ে থাকেন:

করণীয়:

(১) সর্পদংশনে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সর্পদংশনের নিরাময়যোগ্য আধুনিক চিকিৎসার ব্যাপারে আশ্বস্ত করুন।

(২) পা আক্রান্ত হলে হাঁটা যাবে না।

(৩) হাত আক্রান্ত হলে এড়িয়ে চলতে হবে হাতের সমস্ত নড়াচড়া।

(৪) প্রয়োজনে আক্রান্ত হাত বা পায়ের সাথে একটি বন্ধফলক এঁটে দিয়ে তা উপযুক্ত বাঁধন দ্বারা বেঁধে রহিত করতে হবে সব নাড়াচাড়া।

(৫) যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রোগীর মানসিক স্বস্তির লক্ষ্যে আক্রান্ত স্থানের কিছুটা আগে ও পরে এমনভাবে বাঁধতে হবে যে, যার মধ্য দিয়ে হাতের কনিষ্ঠা আঙুল সহজে প্রবেশ করানো যায়।

(৬) সেই সাথে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উন্নত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

বর্জনীয়:

(১) আক্রান্ত স্থানের আগে ও পরে দুই বা ততধিক পট্টি শক্ত বাঁধা। কারণ এতে আক্রান্ত স্থানে রক্তের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। এমনকি আক্রান্ত স্থানে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

(২) আক্রান্ত স্থান ও এর চারপাশে ধারালো জিনিস দিয়ে চেরার মাধ্যমে বিষ ঝরানোর ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে অযাচিত রক্ত ঝরানো।

(৩) আক্রান্ত স্থানে চেরার মাধ্যমে রক্ত ঝরানোর পর তা মুখ বা মুরগির বাচ্চার পায়ুপথ (ক্লোয়াকা) দ্বারা চোষানো।

(৪) কোনো দহনকারক পদার্থ যথা- কার্বলিক এসিড দ্বারা আক্রান্ত স্থান পোড়ানো।

(৫) আক্রান্ত স্থানে বিষ শোষণকল্পে বিভিন্ন লতাগুল্মের লেই কিংবা গোবর বা কাদামাটি লাগানো।

(৬) আক্রান্ত ব্যক্তিকে তেল, ঘি, গোলমচির কিংবা বিভিন্ন লতাগুল্মজাতীয় পদার্থ খাওয়ানোর মাধ্যমে বমি করানো।

(৭) আক্রান্ত স্থানে বিষ শোষণকল্পে পাথর, বীজ বা লালা প্রয়োগ করা।