গাজা সীমান্তে সাগরের তলদেশে অবৈধ ব্যারিকেড নির্মাণ করছে ইসরাইল

 হামাসকে রুখতে গাজা সীমান্তে অবৈধভাবে সাগরের তলদেশে ব্যারিকেড নির্মাণ করছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। তিনস্তর বিশিষ্ট ব্যারিকেডটির প্রথম স্তরটি সাগরের তলদেশে, দ্বিতীয় স্তরটি অস্ত্রসজ্জিত পাথরের এবং তৃতীয়টি স্তরটি ঢিবি আকারের।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাগরের তলদেশ দিয়ে নির্মিত ব্যারিকেডটি দক্ষিণ ইসরাইলের কমিউনিটি ‘জিকিম’ থেকে ভূমধ্য সাগর পর্যন্ত প্রসারিত হবে। যা হামাসকে প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা হবে।

চলতি বছরের শেষের দিকে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে মুসলিম বিদ্বেষী দেশটি।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আবিগদর লিবারম্যানের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, ‘বিশ্ব এ ধরনের ব্যারিকেড এটাই প্রথম; যা কার্যকরভাবে সমুদ্রের মাধ্যমে ইসরাইলে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনাকে অবরুদ্ধ করবে এবং ‘ক্ষতি করার লক্ষ্যে’ হামাসের কৌশলগত সক্ষমতাকে ব্যর্থ করবে।’

ইসরাইলের দাবি, ২০১৪ সালে হামাসের পাঁচ নৌ কমান্ডো ‘অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য’ নিয়ে ইসরাইলের জিকিমে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের এ ধরনের প্রচেষ্টা রুখতেই এই ব্যারিকেড নির্মাণ হচ্ছে।

গাজা সীমান্তে দুই মাস ধরে চলা ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে এ পর্যন্ত ১১৩ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহিদ হয়েছেন। গত ১৫ মে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের দিনতে ৬২ জনকে হত্যা করে ইসরাইলি সৈন্যরা। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরাইলের হামলার পর এক দিনে এত বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি।

১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেমে তারা গড়ে তুলেছে দু’লাখ ইহুদির জন্যে বহু বসতি। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ।

একসময় জেরুজালেমে বহু দেশের দূতাবাস ছিলো। কিন্তু ১৯৮০ সালে ইসরাইল জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করার পর বহু দেশ সেখান থেকে তাদের দূতাবাস সরিয়ে নেয়।

কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সূত্র: স্পুটুনিক ডট কম