রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর করণীয়

বর্তমানে পৃথিবীতে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০০ মিলিয়ন। ২০২০ সালে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩০০ মিলিয়নে। এর মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মানুষরা রোজা রাখে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৪৬% ডায়াবেটিসে ভুগছে। সে হিসাবে দাঁড়াচ্ছে, প্রতি রমজান মাসে ৪-৫ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীর ৪৩% এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর ৭৯% রমজান মাসে রোজা রাখে। রোজা রাখার সময় ডায়াবেটিস রোগীদের নিম্নের বিষয়গুলি লক্ষ রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

 

১. গ্লুকোজের পরিমাণ কমা :
খাদ্য গ্রহণে অনেকক্ষণ যাবৎ বিরত থাকলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমতে থাকে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ডায়াবেটিকস রোগীর রোজা রাখার সময় এতটাই কমে যেতে পারে, তাকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করতে হতে পারে। টাইপ-১ ডায়াবেটিকস রোগীর ক্ষেত্রে এরূপ হাইপোগ্লাইসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৭ গুণ এবং টাইপ-২ ডায়বেটিসের ক্ষেত্রে ৭.৫ গুণ বেশি।

২. গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়া :
রোজা রাখার কারণে টাইপ-১ ও টাইপ-২ উভয় ধরনের ডায়াবেটিকস রোগীর ক্ষেত্রেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কিছুটা ঝুঁকি থাকে। তবে টাইপ-১ ডায়াবেটিকস রোগীর ক্ষেত্রে তা মারাত্মক হতে পারে। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এ থেকে জীবননাশের ঘটনাও ঘটতে পারে।

৩. কিটোঅ্যাসিডোসিস :
টাইপ-১ ডায়াবেটিকস রোগীরা বেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তের গ্লুকোজ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়া বা কিটোনবড়ি বেড়ে যাওয়ার কারণে সংকটাপন্ন অবস্থা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের রক্তের গ্লুকোজ রোজার আগে সঠিক মাত্রায় ছিল না।

৪.পানিশূন্যতা ও থ্রম্বোসিম :
দীর্ঘ সময় পানি বা পানীয় খাদ্য গ্রহণে বিরত থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা (ডিম্বইডেশন) দেখা দিতে পারে। আর গরম ও বেশি আর্দ্র আবহাওয়ায় পানিশূন্যতা আরও প্রকট হতে পারে। যাদের রোজা রেখে কঠোর শারীরিক শ্রম দিতে হয়। তাদেরও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। রক্তে বেশি মাত্রায় গ্লুকোজ থাকলে শরীর থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার হার অনেক বেড়ে যায়। এতে করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যেতে পারে। সুতরাং রোজা রাখার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে।