রিজার্ভ চুরি’র ঘটনায় বাংলাদেশের কেউ জড়িত না

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশাল অংকের রিজার্ভ চুরি’র ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরীণ কেউ জড়িত নয় বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চুরিটি একটি আন্তর্জাতিক চক্রের কাজ। যার সাথে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা জড়িত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যে উপায়ে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ সরানো হয়েছে তা বাংলাদেশের বাইরে থেকেই করা হয়েছে। একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে খুব সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা এটি করেছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা অভ্যন্তরীণভাবে বাংলাদেশের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় নি। তবে বিষয়টিকে এখনো স্পষ্টভাবে দেখছেন না দেশের অর্থনীতিবিদরা।

IFrame

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, নিউইয়র্ক টাইমস বা পশ্চিমার অন্যান্য প্রতিবেদন এর আগেও আমরা দেখেছি যেখানে বলা হয়েছে এই ঘটনার সাথে উত্তর কোরিয়া জড়িত রয়েছে। কিন্তু ড. ফরাসউদ্দিনসহ আমাদের দেশীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। এই তদন্ত কমিটির ফলাফল কেনো প্রকাশ করা হচ্ছে না? যদি এটি প্রকাশ হয় তাহলেই এই চুরির ঘটনার স্বচ্ছতা আমাদের কাছে পরিস্কার হবে বলে আমি মনে করি।

একই কথা বললেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আলী সিকদার। তিনি বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার থেকে একটা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কিন্তু এটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। যদি এটির ফলাফল সরকার প্রকাশে না আনে তাহলে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে দেশীয় কেউ এর সাথে জড়িত রয়েছে। অথবা আভ্যান্তরীণ কোনো ত্রæটিও থেকে থাকতে পারে। তাই দেশীয় তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া খুবই জরুরি। সাইবার সিকিউরিটির লোকরাও এর সাথে জড়িত থাকতে পারে। সার্বিক বিষয়টি বিবেচন করলে দেখা যায়, দেশীয় তদন্তের প্রতিবেদন না প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কেউ এর সাথে জড়িত আছে কি না তা নিয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারবো না। তাই বিদেশের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা কোনো ধরণের সিদ্ধান্তে আসতে পারব না। আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত হউক।

এদিকে ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে আরো জানা যায়, সম্প্রতি মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইও রিজার্ভ চুরি নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেখানেও এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কিংবা বাংলাদেশের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়নি।