পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ শুরু ১২ জুনের মধ্যেই

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের নতুন সময় নির্ধারণ করেছে জ্বালানি বিভাগ। নতুন সময় অনুযায়ী ৬ থেকে ১২ জুনের মধ্যে যেকোনও দিন এলএনজি যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। এর আগে সাগরের তলদেশে নির্মিত পাইপলাইনে (সাব সি পাইপলাইন) সমস্যার কারণে দুই দফা পিছিয়ে গেছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের তারিখ। সর্বশেষ  শনিবার (২৬ মে) থেকে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহের কথা ছিল। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ৫ থেকে ৬ দিন ধরে এলএনজির পাইপলাইনের ত্রুটি সরাতে কাজ করছে এক্সিলারেট এনার্জির প্রকৌশলীরা। সবমিলিয়ে ১২দিনের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

গত ২৪ এপ্রিল এক্সিলারেট এনার্জি এলএনজির ভাসমান টার্মিনালটি কাতার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এরপর ১০ মে প্রথম দফায় এলএনজি সরবরাহের তারিখ ঠিক করা হলেও শেষে তা ঠিক রাখা সম্ভব হয়নি। এরপর ২৫ অথবা ২৬ মে দ্বিতীয়বারের মতো সময় ঠিক করা হলেও সরবরাহ শুরু করতে পারেনি এক্সিলারেট এনার্জি।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জাহাজের নোঙ্গর বাঁধার জন্য সাগরের নিচের আটটি পয়েন্টের কাজ শেষ করা হয়েছে। স্থলভাগের পাইপলাইনের কাজ শেষ হয়েছে আরও একমাস আগে। কিন্তু জাহাজ থেকে স্থলভাগ পর্যন্ত আসতে সাব সি-এর ছোটখাটো কাজ বাকি আছে।এখন সেগুলোরই কাজ চলছে।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল। এ কারণে সাগরের নিচে পাইপ লাইনের কাজ করা কঠিন হচ্ছে। সাব সি পাইপ লাইনের নির্মাণ কাজ এক্সিলারেট এনার্জির দায়িত্বে। জাহাজ থেকে যে পাইপ লাইনটি সাগরের তলদেশের পাইপ লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে, সেখানেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক্ষেত্রে এক্সিলারেট এনার্জির ডুবরিরা কাজ করছেন। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় ঠিক মতো কাজ করতে পারছে না।’

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ৬ জুন জাহাজে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভাব্য সমস্যার কথা মাথায় রেখে সর্বশেষ ১২ জুন পর্যন্ত টার্গেট ধরা হয়েছে।’

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) জানায়, মহেশখালী জিটিসিএল-এর স্টেশন থেকে ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যোগ হবে। টার্মিনালটি দিয়ে প্রতিদিন ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে।১৫ বছর ধরে চুক্তির আওতায় রিগ্যাসিফিকেশন চার্জ নেবে এক্সিলারেট এনার্জি। সাগরে ভাসমান টার্মিনালের অবস্থান থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারের সাবসি পাইপলাইন দিয়ে এই গ্যাস জিটিসিএল-এর স্টেশনে আসবে। মূল সমস্যাটি এই সাড়ে চার কিলোমিটার পাইপ লাইনে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘সাড়ে চার কিলোমিটার পাইপ লাইনের মধ্যে দুটো ফ্রেঞ্জ (জোড়া) রয়েছে।পাইপ লাইনটিতে এক হাজার পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করতে গেলে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু যখনই দেড় হাজার পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে তখন একটি ফ্রেঞ্জ থেকে গ্যাস বাইরে বের হয়ে আসছে। গত ৫ থেকে ৬ দিন ধরে ফ্রেঞ্জ টাইট করার চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু সাগর বেশ উত্তাল একঘণ্টার বেশি পানির নিচে গিয়ে ডুবরির দল কাজ করতে পারছে না।’ তিনি বলেন, ‘স্থলভাগে পাইপলাইন করা যত সহজ, পানির নিচে কাজটি করা ততই জটিল। তাই একটু সময় লাগছে।’

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের পর বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে এলএনজি আনবে আরও তিনটি কোম্পানি। সামিট, রিলায়েন্স, হংকং সাংহাই মানজালা।২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল সামিটের সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা। তাদেরও এ বছরের অক্টোবরে এলএনজি আনার কথা রয়েছে। এছাড়া রিলায়েন্স ও হংকং সাংহাই মানজালার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে রিলায়েন্স ২০১৯ সালের জুন মাসে ও মানজালার ২০২০ সালের জুন মাসে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।