হাজার হাজার মাদক মামলার নিষ্পত্তি নেই কেন?

দেশে মাদক-বিরোধী বিশেষ অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৪৯-এ পৌঁছেছে। সারাদেশে আটক হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অপরাধ ঠেকাতে সরকার আইন-বহির্ভূত হত্যার পথ নিয়েছে বলে সমালোচনা উঠতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশে মাদক ব্যবসা এবং পাচারের সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার জন্য মাদক বিরোধী আইন রয়েছে। খবর বিবিসি

মাদক বিরোধী আইন কতটা কার্যকর?
বাংলাদেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে মোট ১১৬১২টি। চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৩২৮৯টি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দীন আহমেদ বলছেন, ‘২০১৭ সালে ২৫৪৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০১৬টি মামলায় আসামীর সাজা হয়েছে।’ আর আসামী খালাস পেয়েছে ১৫২৮টি মামলায়।

ওদিকে, সারা দেশে এই বিশেষ অভিযানে গত ১০দিনে ৪৯জন নিহত হওয়ার ঘটনার কথা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার।

মে মাসের ১৫ তারিখ থেকে ২৪শে মে পর্যন্ত সারাদেশের এই সংখ্যা দিচ্ছে তারা। পুলিশের ভাষায়, নিহতের ঘটনার সবটাই ঘটেছে বন্দুক-যুদ্ধে। এসব কথিত বন্দুক যুদ্ধ নিয়ে যেমন সমালোচনা হচ্ছে তেমনি মামলা পরিচালনা করার প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের আদিলুর রহমান খান পুরো ব্যবস্থার মধ্যে গাফিলতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘পুরো সিস্টেমটাই তো গাফিলতির মধ্যে আছে। এখানে গাফিলতি একটা দুইটা ক্ষেত্রে না।’

তিনি বলেন, মাদক বিরোধী মামলা পরিচালনা করা তো দ্বিতীয় ধাপের ব্যাপার।

‘প্রথম ধাপে রয়েছে যারা এটার নিয়ন্ত্রণকারী, যারা এর আমদানিকারক কিংবা ব্যবসায়ী তাদের ধরা হচ্ছে না।’
খান প্রশ্ন রাখেন, ‘যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা কি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, নাকি তারা আদিষ্ট হয়ে যা করতে বলা হচ্ছে তাই করছে?’

মামলা পরিচালনা এবং নিষ্পত্তি নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে মামলার ধরণের কারণেই মাদকের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

পুলিশের মুখপাত্র সহেলী ফেরদৌস বলেন, মামলা সঠিকভাবে পরিচালনা না হওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন গাফিলতি নেই বরং যেসব আইন রয়েছে সেটা নিয়ে আলোচনা করা দরকার।

বাংলাদেশের মাদক বিরোধী আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা থাকলেও এর কিছু ত্রুটি এখনো রয়ে গেছে।

এ সম্পর্কে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো.জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘প্রচলিত আইনের তফসিলে বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। যাদের মাদকের গডফাদার বা মাস্টার-মাইন্ড বলা হয় তাদেরকে আইনে সোপর্দ করার কোন ব্যবস্থা বর্তমান আইনে নেই।’

‘আমরা আইন সংশোধন করে, যারা মাদকের ব্যবসা করে এবং মাদক তৈরি করে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনানুগ বিধান তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’