মাদকের মামলায় শাস্তি কী?

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে মাদকের ভয়াবহতা ও ব্যাপ্তি ঠেকাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। আইনটিতে মাদকের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তিও নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে কমপক্ষে দুই বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে যা বলা আছে-

১৯৯০ সালের ২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০। এরপর বেশ কয়েকবার আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়। আইনটি ১৯ ধারায় মাদকদ্রব্য ব্যবহারের পরিমাণ ও এর দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে-

হেরোইন, কোকেন এবং কোকা উদ্ভূত মাদকদ্রব্য-

এসব মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হলে কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এসব মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২৫ গ্রামের ঊর্ধ্বে হলে তার মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

প্যাথেড্রিন, মরফিন ও টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল-

এসব মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ১০ গ্রাম হলে কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড হয়ে থাকে। তবে মাদকদ্রব্যের পরিমাণ যদি ১০ গ্রামের ঊর্ধ্বে হয়,সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

অপিয়াম, ক্যানাবিস রেসিন বা (অপিয়াম উদ্ভূত,তবে হেরোইন ও মরফিন ব্যতীত মাদকদ্রব্য)-এসব মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২ কেজি হইলে কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর এর পরিমাণ ২ কেজির ঊর্ধ্বে হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মেথাডন-

মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫০ গ্রাম হলে কমপক্ষে ২ বছর এবং অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। কিন্তু এর পরিমাণ ৫০ গ্রাম এর ঊর্ধ্বে হলে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

গাঁজা বা যে কোনও ভেষজ ক্যানাবিস-

এসব মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫ কেজি হলে কমপক্ষে ৬ মাস এবং অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এর পরিমাণ ৫ কেজির ঊর্ধ্বে হলে কমপক্ষে ৩ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

যে কোনও প্রজাতির ক্যানাবিস গাছ-

ক্যানাবিস গাছের সংখ্যা অনূর্ধ্ব ২৫টি হলে কমপক্ষে ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর গাছের সংখ্যা ২৫টির বেশি হলে কমপক্ষে ৩ বছর এবং অনূর্ধ্ব ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

ফেনসাইক্লিআইন, মেথাকোয়ালন এল, এস, ডি, বারবিরেটস অ্যামফিটামিন (ইয়াবা তৈরির উপাধান) অথবা এইগুলির যেকোনটি দ্বারা প্রস্তুত মাদকদ্রব্য-

মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ৫ গ্রাম হলে কমপক্ষে ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড। আর মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ৫ গ্রাম এর ঊর্ধ্বে হলে কমপক্ষে ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড।

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন,‘দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বলা আছে। সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তিরও বিধান রয়েছে। তাই সরকারকে এ (শাস্তি) জায়গাটায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী সদস্য জেড আই খান পান্না মনে করেন, ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া একান্ত দরকার। মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।’