বদলে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, ৪৪ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকার মহাপরিকল্পনা

: প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার এ মহাপরিকল্পনার কাজ আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে একটি কার্যকর অন্তভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।  বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যাতে পাঠ্যসূচিতে নির্ধারিত শ্রেণীভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক শিখন যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগতমানের উন্নয়ন, সার্বজনীনভাবে বিস্তৃত একটি সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যা শিশুদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হবে। প্রথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী সুশাসন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান রাখা ও উন্নত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মান বৃদ্ধি করে একটি কার্যকর, অন্তভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।     পিইডিপি-৪ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ৩১ হাজার ৮৪৮.৫৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ১২ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। প্রকল্প সাহায্য হিসাবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো- বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইইউ, ডিএফআইডি, অস্ট্রেলিয়ান এইড, কানাডিয়ান সিডা, সুইডিশ সিডা ও ইউনিসেফ ঋণ সহায়তা দেবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রকল্পটি বরাদ্দবিহীনভাবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রকল্পটি বরাদ্দবিহীন অনুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে এডিপিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে। গত ২২ মে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে।  প্রকল্পের আওতায় প্রি-প্রাইমারি এবং প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমান পাঠ্যসূচির সংশোধন এবং সব বিদ্যালয়ে যোগ্যতাভিত্তিক টিচিং লার্নিং শিক্ষা উপকরণ প্রদান ও নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এক লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করা হবে। এছাড়া এক লাখ ৩৯ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষকের ডিপ-ইন এড প্রশিক্ষণ প্রদান; শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রতি শিক্ষকের বিষয়কভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান; ৫৫ হাজার শিক্ষকদের ইনডাকশন, প্রতিষ্ঠানিক, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান; ১৭শ’ শিক্ষকের এক বছর মেয়াদে সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ, ২০ হাজার শিক্ষকের এক বছর মেয়াদে আইসিটি ট্রেনিং, ৬৫ হাজার শিক্ষকের লিডারশিপ ট্রেনিং; ২৫৯০ সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ।  এর বাইরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ৩৫ হাজার কর্মকর্তা ও শিক্ষকের বৈদিশিক প্রশিক্ষণ, ২০০ জন শিক্ষক/কর্মকর্তার এক বছর মেয়াদে বৈদেশিক মাস্টার্স, ১১৪০ জন প্রশিক্ষক এক লাখ ৩০ হাজার জন প্রাথমিক শিক্ষকদের ব্রিটিশ কাউন্সিলের (সিঙ্গেল সোর্স) মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, বিশ্ব গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন, সকল বিদ্যালয়কে প্রি-প্রাইমারি শিক্ষার উপোযোগিকরণ। এছাড়া ৭১ হাজার ৮০৫ টি ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ক্রয়, সহজ ঋণ সুবিধার মাধ্যমে ৮০ হাজার ক্ষিককে নিজস্ব আইসিটি সরঞ্জামাদি ক্রয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরসহ পিটিআই ও অন্যান্য জেলা অফিসের জন্য ১৯৭৩টি কম্পিউটার সরঞ্জাম ক্রয়, প্রাথমিক শিক্ষাবোর্ড স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন চাহিদাভিত্তিক আসবাবপত্র ক্রয়, ৩৯ হাজার পুরুষ এবং ৩৯ হাজার মহিলা ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হবে।  এছাড়া ১৫ হাজার বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা, প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত ১০ লাখ শিক্ষাকে আউট অব স্কুল শিক্ষা প্রদান, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং এ সংক্রান্ত শিক্ষা সহায়কযন্ত্র ক্রয়, ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহ, আইসিটি সিস্টেম, পরিবীক্ষণ, রিপোর্টিং ও মূল্যায়ন শক্তিশালীকরণ এবং আইসিটি মনিটরিং ড্যাশবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি চালুকরণ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিশেষ উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে ভর্তির হার বৃদ্ধিকরণ, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ ও বিকেন্দ্রীকরণ শিক্ষা প্রশাসন শক্তিশালীকরণ।