হুমকির মুখে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

স্টাফ রিপোর্টার : গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতি দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের নির্জন কারাগারে বন্দি আছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।  জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া জামিন পেলেও আরো বেশকয়েকটি তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হওয়ায় পাননি কারামুক্তি। তাই খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত এখন হুমকির মুখে।

৩০ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তি হতে হবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। আপিল বিভাগের এই নির্দেশনার পর নতুন করে আলোচনা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে।

ঘটনা বহুল রাজনৈতিক জীবনের দ্বিতীয় বারের মতো কারাবাসের অভিজ্ঞতা হলো বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। মামলার চাপে আর আইনি মারপ্যাচে কারামুক্তি হচ্ছে বিলম্বিত। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। মামলার যাবতীয় নথি দিয়ে তৈরি করা পেপার বুক জড়ো করা হয়েছে হাইকোর্টে। এখন আদেশ পালনে বাধ্য হাইকোর্ট বিভাগ। খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, হাইকোর্টে এক লাখ মামলা রয়েছে। সব কিছু বাদ দিয়ে এই মামলাটিই নিষ্পত্তি করার রহস্যটা কি? সরকার চাচ্ছে আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে। বেগম জিয়াকে ভোটে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়াটা খুব কঠিন ব্যাপার। সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে, নৈতিক স্থলন জড়িত মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হলেই আর প্রার্থী হতে পারবেন না দ-িত ব্যক্তি। বিচারিক আদালতে সাজা উচ্চ আদালতে স্থগিত হলেই কেবল নির্বাচনের অংশগ্রহণ করার জন্য যোগ্য হবেন তিনি। আবার যদি নিম্ন আদালতের রায়টি হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হয়। আর খালেদা জিয়ার দ- বহাল থাকে তাহলে তিনি কোনোভাবেই আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর সাবেক সম্পাদক এ এম আমিন উদ্দিন বলেছেন, বেগম জিয়া যদি নির্দোষ হন তাহলে কোনো সমস্যা নাই। তবে আপিল যদি খারিজ হয়ে যায় তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না, অযোগ্য হবেন।

হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারিক আদালত থেকে দ- পাওয়া ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও না নেওয়ার ব্যাপারে পরস্পর বিরোধী সিদ্ধান্ত আছে। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পরিস্থিতি ছিল এখনকার বিএনপির খালেদা জিয়ার মতোই। বিচারিক আদালত থেকে দ- পেলেও আপিল চলমান থাকায় এরশাদের মনোনয়ন বৈধ বলেছিল হাইকোর্ট। নির্বাচন করে সে সময় জয়লাভও করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে ২০১৫ সালে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে প্রয়াত নেতা প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর মনোনয়ন বাতিল করেছিল রির্টানিং অফিসার। কারণ বিচারিক আদালতে দ- হাইকোর্টে স্থগিত করেনি তাই। সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, খালেদা জিয়ার যে মামলার আপিল সেটা যদি নির্বাচনের আগে নিষ্পত্তি না হয় । তাহলে বিষয়টি নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের ওপরে। দুদকের উচ্চ আদালতে দন্ড পাওয়ার পরে এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা মহিউদ্দিন আলমগীর। একইভাবে আপিল বিভাগ থেকে দন্ড পাওয়ার পরে এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া। আইন ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এসকল ক্ষেত্রে আইন ও আদালতের থেকে রাজনীতি বড় বিবেচ্য হয়ে উঠে। এখন খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে কি হবে তা সময়েই বলে দেবে।