সাভারে চাঁদা আদায় নিয়ে ছাত্রলীগ-কাউন্সিলরের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ, ৫টি মোটরসাইকেলে আগুন, ফাঁকা গুলি, আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে সড়ক ও জনপথের জমিতে নির্মিত বাজার থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ৫টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। আহতদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১১ টারদিকে সাভার পৌর এলাকার কাতলাপুর মহল্লায় ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আব্দুস সাত্তার মিয়ার বাড়ির সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশের ফুটপাতে সওজের জমিতে স্থানীয় বেশ কিছু লোকজন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তবে গত ১৫/২০ দিন যাবৎ ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান ওই জমি পৌরসভার কাছ থেকে ইজারা নিয়েছে দাবী করে ব্যবসায়ীদের কাছে দশ থেকে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাদের বেশ কিছু দোকান-পাট বন্ধ করে দিয়েছে তার লোকজন। এরপর থেকেই উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ীদের সাথে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাদের বিরোধ চলে আসছিল। এ অবস্থায় রোবাবর বিকেল সাড়ে ৫ টারদিকে ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান তার লোকজন নিয়ে উলাইল বাজারে চাঁদা আদায় করতে যায়। এসময় কাউন্সিলরের নির্দেশে ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদের মধ্যে বাক বিতন্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে কাউন্সিলরের লোকজন ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতানকে মারধর করে।

এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ১০-১২ টি মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আশপাশের লোকজনকে এলাপোথারী মারধর করায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে পুরো এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার জবাবে কাউন্সিলরের নাতি আসিফসহ অন্যান্যরা ফাঁকা গুলি চালিয়ে এগিয়ে আসলে পিছু হটে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী হামলাকারীদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আহত হয় অন্তত ১০ জন।

খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও হামলার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।

পৌর কাউন্সিলর হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান আমার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে। কিন্তু আমি ব্যবসায়ীদেরকে চাঁদা দিতে নিষেধ করায় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী স্টাইলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এঘটনায় এলাকাবাসীরা একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে পিছু হটে তারা।

সাভার উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। এরপরও আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আপাতত আমরা তাদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করছি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির উলাইল বাজারে থেকে চাঁদা আদায়ের টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান ও কাউন্সিলর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে এখনও হামলার ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানান তিনি।