বিএনপির টার্গেট ১৫০ আসন!

স্টাফ রিপোর্টার :চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন বা নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ সরকারের আন্দোলনে সফলতার আশা এক রকম ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি! রাজপথের এই বিরোধী দলটি এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী হয়ে উঠছে। সেজন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপি এগুচ্ছে বলে দলটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা  জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের উপর ছেড়ে দিয়েই চলছে দলীয় হাইকমান্ড।

আর সরকারের অনড় অবস্থানের মুখে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের আশাও তেমন আর দেখছেন না তারা। ফলে নির্বাচনের ছক কষা, নিজস্ব কৌশল ঠিক রাখা, বাধাবিপত্তি কাটিয়ে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে দলটির হাই কমান্ড।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা স্পষ্ট বলেছেন, তারা ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন না করার মতো ভুল আর করবেন না। একই সাথে নির্বাচনকালীন জিয়া পরিবারের কোনও একজন সদস্যকে মাঠে নামানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তারা। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার দুই পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান বা শর্মিলা রহমানকেই পছন্দের শীর্ষে রাখছেন তারা।

৩ ক্যাটাগরিতে প্রার্থী বাছাই

বিএনপির একাধিক ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, তিন ক্যাটাগরিতে এরইমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করেছে বিএনপির একটি বড় গবেষণা ও জরিপ দল।

দলটি ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের সব নির্বাচনী এলাকা জরিপ করে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী, বিরোধী শিবিরের প্রার্থী এবং বিকল্প প্রার্থীদের খোঁজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে রেখেছে।

এই গবেষণা ও জরিপ দলটিতে শতাধিক রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা, সাবেক সেনাসদস্যসহ বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা কাজ করেছেন। এসব কাজের অধিকাংশই খালেদা জিয়া মুক্ত থাকতে শেষ হয়েছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাইয়ে তিনটি বিষয় সামনে রেখে এগুচ্ছে দলটি।

প্রথমত: এর আগে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এমন প্রার্থীদের খোঁজ নেয়া হয়েছে। তারা গত ১০ বছর দলের সংকটে সক্রিয় ছিলেন কিনা বা দল বিরোধী কোনও কাজ করেছেন কিনা তা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত: একেবারে নবীন প্রার্থী যারা আছেন তারা কিভাবে নিজেকে যোগ্য দাবি করছেন তা নিজেদের মতো করে অনুসন্ধান করা।

তৃতীয়ত: ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে যৌক্তিক কারণে যারা হেরেছেন তাদের বর্তমান অবস্থার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এই তিন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৫০টি আসন ন্যূনতম ভোটের ফলে নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তেমন একটি পরিবেশ করতে চায় বিএনপি।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ভোটযুদ্ধে সরকারি দলের প্রার্থী থেকে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা যাবে এমন ১৫০টি আসন নিশ্চিত রাখতে পারলে দল ক্ষমতায় আসবে। সেসব আসনের তৃণমূলের নেতাদেরও সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কোনও কোনও আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠ গুছিয়ে এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জোটভুক্ত প্রার্থীদের চেয়ে নিজেদের দলের প্রার্থীদের উপরই বেশি ভরসা রাখতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। তারা মনে করেন ১৫০ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী জিততে পারলে বাকী শরিক পাওয়া কোনও সমস্যা হবে না।

যদিও জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বাচন করবে নিশ্চিত, তবে এখনই কোনও প্রার্থীকে সরাসরি মনোনয়নের প্রত্যাশা দেয়া হচ্ছে না। সেটি চূড়ান্ত করবে শেষ সময়ে দলের মনোনয়ন বোর্ড।

তিনি বলেন, যেসব জায়গায় একাধিক আগ্রহী প্রার্থী আছেন তারা তাদের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যেসব জায়গায় একজনই প্রার্থী সেসব আসনের কথা আলাদা।

উদাহরণ হিসাবে ড. মোশাররফ তার নিজের আসনের কথা উল্লেখ করে বলেন, তার আসনে তিনি নিজে একাই প্রার্থী। তাই সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি তিনি বিএনপির পক্ষ থেক একাই নিচ্ছেন।

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, আন্দোলনের সুফল আসবে না তা বলা যায় না। এবার আর আগের মতো হবে না। শেষ মুহূর্তে সরকার আন্দোলনের মুখে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বাধ্য হবে।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান  বলেন, বিএনপি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না গিয়ে ভুল করেছিলো। এবার আর দলের কেউ সে ভুল করবে না। যত প্রতিবন্ধকতাই থাকুক আগের ভুলে পুনরাবৃত্তি না করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি।

সেক্ষেত্রে দলের নিজস্ব প্রস্তুতি সবই রাখা হয়েছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, সব কিছুই বিএনপির ইচ্ছা আর সুবিধাজনকভাবে হবে তাতো নয়। সরকার তার মতো করে নির্বাচন চাইবে এটাই স্বাভাবিক।

তাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যা যা প্রস্তুতি দরকার তা চলছে বলে জানান মাহবুবুর রহমান।