বন্দুকযুদ্ধে নিহত আরও ১০ ‘মাদক ব্যবসায়ী’

সারাদেশে গত কয়েক দিন ধরে মাদকবিরোধী অভিযান চলাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ৮ জেলায় র‍্যাব ও পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১০ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এরমধ্যে কুমিল্লা ও সৈয়দপুরে দু’জন করে চারজন এবং চট্টগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, দিনাজপুর, নারায়ণগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছে। এর আগে রবিবার রাতে বন্দুকযুদ্ধে ৯ জন নিহত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হলো।

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তারা হলেন, উপজেলা শহরের নিচু কলোনি এলাকার জনী (৩৪) ও ইসলামবাগ এলাকার শাহিন (৩২)। সোমবার (২১ মে) রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘আটক মাদক ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় জসিয়ার রহমান জসি ও নূর বাবু নামে দু’জন মাদক ব্যবসায়ী মাদকের বড় চালান নিয়ে আসবেন। তাদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে আটক দুজনকে নিয়ে সেখানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি চালায় ও ককটেল ফাটানো হয়। এ ঘটনায় ওই দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত এবং ৪ জন পুলিশ গুরুতর জখম হয়।’

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

এলাকাবাসী জানায়, ওই দুই মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখানে নিয়ে যায় এবং ভোরে তাদের দুজনের মরদেহ গোলাহাট এলাকায় পাওয়া যায়।

দিনাজপুর: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে প্রবাল হোসেন নামে (৩৫) এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। তার বাড়ি বিরামপুরের দক্ষিণ দামোদারপুর (বাসুদেবপুর) গ্রামে। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ কমপক্ষে ৮টি মামলা রয়েছে।

বিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, সোমবার রাত ৩টার দিকে বিরামপুর পৌর এলাকার মনিপুর নামক স্থানে পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই খুরশীদ জাহান ও এএসআই রামচন্দ্র আহত হয়েছে।

পরে পুলিশ সেখানে তল্লাশি করলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রবালকে উদ্ধার করে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভালবার, ৫টি ককটেল ও ৯৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-১-এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাচ্চু মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে জেলার আড়াইহাজার থানার শিমুলতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় আক্কাস আলী নামে র‌্যাবের এক সদস্য আহত হয়েছে বলে র‌্যাবের দাবি। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব ১০ হাজার ইয়াবাসহ একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি নিশান জিপ জব্দ করেছে।

এ বিষয়ে আড়হাজার থানার ওসি এমএ হক বলেন, র‌্যাব ভোরে বাচ্চু মিয়াকে নিয়ে মাদক উদ্ধারে গেলে তার সাহযোগীরা র‌্যাবের ওপর হামলা চালায়। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে আহত বাচ্চুকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী ধন মিয়া (২৮) নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ধন মিয়ার বিরুদ্ধে চারটি মাদকের মামলা রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী র‍্যাব ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০ এর একটি দল রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাঞ্ছারামপুরের সোনারমপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দা এলাকায় ধন মিয়ার অস্তানায় অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ধন মিয়ার সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া ওরফে সবুজ নিহত হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব সদস্যরা ১২ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ৬ রাউন্ড গুলি, মাদক বিক্রির ৪৮হাজার টাকা ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে। এছাড়া আস্তানা থেকে ধন মিয়ার স্ত্রী আরজিনাকে আটক করাহয়। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কুমিল্লা: কুমিল্লা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার নামে তালিকাভুক্ত শীর্ষ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার রাত পৌনে ১টার দিকে জেলা সদরের অদূরে বিবির বাজার অরণ্যপুর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২ রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, একটি পাজেরো জিপ, ৫০ কেজি গাঁজা এবং ৫০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানকালে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুপ কুমারসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদকের একটি বড় চালান আসছে গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমনের নেতৃত্বে একাধিক টিম ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত পৌনে ১টার দিকে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

ওই অভিযান চলাকালে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুপ কুমার, এসআই শাহ আলম,কনস্টেবল তানভীর এবং ডিবির এএসআই শাহীনুর আলম আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের কাছে গুলিতে কামরুজ্জামান সাধু (৪৫) নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি নিহত হয়েছে। ওই সময় পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছে। নিহত কামরুজ্জামান সাধু উপজেলার হারদি গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) লুতফুল কবির জানান, সোমবার রাতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের কাছে টহল দিচ্ছিল। ওই সময় ৬-৭ জন মাদক ব্যবসায়ী তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি করলে মাদক ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সাধু নিহত হয়। অন্যরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের উপপরিদর্শক জিয়াউর রহমান, সহকারী উপপরিদর্শক হামিদুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম এবং কনস্টেবল রাকিব আহত হন। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। র‌্যাব-৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি শুরু করে। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় শুক্কুর আলীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি ওয়ানশুটারগান, বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোনা: সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আমজাদ হোসেন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, সোমবার রাত ২টার দিকে আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলার বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই সময় আমজাদের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে আমজাদ হোসেন নিহত হয়। আমজাদ নেত্রকোনা শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকার বাসিন্দা।

ওসি আরও বলেন, ওই ঘটনায় তিনিসহ উপপরিদর্শক মহসিন, মামুন, মকবুল ও কনস্টেবল মালেক আহত হয়েছেন।