গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন শিক্ষিকা, অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার : গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষিকা। শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ২০ মে মধ্যরাত থেকে তাদের অন্তরঙ্গ ছবিগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিক্যুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষিকা ডাঃ মাহাবুবা খাতুন এবং একই বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসুর রহমানের অন্তরঙ্গ স্থিরচিত্র এগুলো। এর আগে ১৯ মে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শিক্ষার্থী নাফিসুর রহমানের ফেসবুক প্রোফাইলে “গট ম্যারিড” পোস্ট আসে। তখনই তার সহপাঠীমহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ডাঃ মাহবুবা খাতুন এর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার পূর্বে বিয়ে হয়েছিলো। কিন্তু সে বিয়ে এক বছরের মাথায় বিচ্ছেদ হয়। পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে দীর্ঘ ৮ বছর সাভারে একা একা থেকেছি। আমার মা বাবা নেই। এখন কোনভাবেই আমার একা থাকা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকে অনেকভাবে আমাকে সমস্যা করছে। সামাজিকভাবে আমি সমস্যায় পড়ছি। আমার এক ছেলে রয়েছে। তার কথা এবং আমার সম্মানবোধের কথা চিন্তা করে আমি নাফিসুর রহমানকে গত ৩/৫/১৮ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আইনজীবী তাসলিম আহম্মদ এর মাধ্যমে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। আমার কাছে তার ডকুমেন্ট আছে, কাবিন আছে। কিন্তু কে বা কারা নাফিসের মোবাইল থেকে আমাদের পারিবারিকভাবে তোলা ছবি সংগ্রহ করে আমাকে সমাজিকভাবে ছোট করতে তা ভাইরাল করছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে।


এ ব্যাপারে নাফিসুর রহমান বলেন, আমাদের পরিচিত কেউ এই ষডযন্ত্র করেছে। আমরা বিয়ে করে একই সাথে বসবাস করছি। বর্তমানে সাভারের ব্যাংক কলোনিতে এক সাথে আমাদের দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। যারা এই ষডযন্ত্র করেছে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের নামে এক দুদিনের মধে জিডি করবো।
রাজশাহী’র মেয়ে মাহবুবা খাতুন সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার ৮ বছর বয়সী একটি ছেলে-সন্তান রয়েছে। নাফিসের গ্রামের বাড়িও রাজশাহী। সে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ৩য় বর্ষ (৫ম সেমিস্টার) এর শিক্ষার্থী। সে পেশাগতভাবে একজন ডেন্টিস্ট।
এমন অপপ্রচারের কারণে গণ বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ শাকিল মাহমুদ জানান, “এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই। এসব নিতান্তই তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কিত। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই পারে”।
উল্লেখ্য ডাঃ মাহবুবা খাতুনের বাড়ী রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া উপজেলার সপুরা গোরস্থান পাড়ায়। তার বাবা মৃত আবু বরক সিদ্দিক।
নাফিসুর রহমানের বাড়ী রাজশাহী জেলার তানোর পৌরসভার তালন্দ গ্রামে। তার বাবার নাম শুকুর উদ্দিন। তারা বর্তমানে সাভারের ব্যাংক কলোনি তে বাড়া বাসায় বসবাস করছেন।