খুলনা নির্বাচন কেন্দ্র না দেখে ভোটকে ‘অস্বচ্ছ’ বলল সুজন

স্টাফ রিপোর্টার : ভোটের দিন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ না করে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলেছে বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের দাবি, নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। গত ১৫ মে ভোটের সাত দিন পর মঙ্গলবার (২২ মে) রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই নির্বাচন নিয়ে নিজেদের মূল্যায়ন ও তথ্য তথ্য উপস্থাপন করে সুশাসন নিয়ে কাজ করা এনজিওটি। আলোচিত এই নির্বাচনে ৬৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক। তবে বিএনপি এই ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি ‘ভোট ডাকাতি’ করে তাদেরকে হারানো হয়েছে। ফল প্রকাশের পর দিন বিএনপির প্রার্থী মঞ্জু ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টিতে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি করেছেন। তার দাবি, এসব কেন্দ্রেই হয়েছে কারচুপি। নির্বাচন কমিশন অবশ্য ভোটের দিন জাল ভোটের ঘটনায় ছয়টি কেন্দ্রে ব্যবস্থা নেয়। তিনটি কেন্দ্রে ছাপ দেয়ার পর বাতিল করা হয় কিছু ব্যালট। আর তিনটি কেন্দ্রে ভোট আর শুরুই হয়নি। নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ-ইডব্লিউজি জানিয়েছে, তাদের পর্যবেক্ষণ করা ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টি কেন্দ্রে ‘সামান্য’ গোলযোগ হয়েছে। তবে এসব অনিয়ম ভোটের ফল পাল্টে দেয়ার মতো ছিল না। তবে সুজন সম্পাদক বলেন, তারা ভোট কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণ না করলেও পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, তথা স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, কুমিল্লার (সিটি করপোরেশন নির্বাচন) অর্জন খুলনায় ম্লান হয়েছে।’ ‘নির্বাচনে দৃশ্যত বড় কোনো ধরনের অঘটন ও সহিংসতা ছাড়া অনুষ্ঠিত হলেও স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন না, অনেক ভোট কেন্দ্রে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট না থাকা, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, কেন্দ্রের সামনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কর্মীদের জটলা সৃষ্টি করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি, ভোটের আগেই বিরোধী দলের প্রার্থী সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা, রিটার্নিং অফিসারের ওপর যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে সহায়তাকারী হিসেবে নিয়োগ করা, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার ওপর চড়াও হওয়া ইত্যাদি ঘটনাবলী এ নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।’ নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিষয়ে সুজন মনে করে, ‘কমিশনের প্রস্তুতি ভালো ছিল বলা হলেও এক পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। পরে তাকে সহায়তার জন্য যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজনকে খুলনায় পাঠানো হয়, যা নজিরবিহীন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও আইন সম্মত কিনা তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। এর মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়েছে।’ সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য ড. তোফায়েল আহমেদ, সৈয়দ আবুল মকসুদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।