কিশোর সময়—-তোরাব আল হাবীব

মুরব্বিরা বকাঝকা করতেনই বেশ কটু

গাছের পাতা ছিঁড়তে তবু আমরা ছিলাম পটু।

বলছি তবে রহস্য সেই এবং আসল কারণ

বক্ষে সবার তখন ছিল কিশোরসময় ধারণ।

আমরা তখন পাখির মতো শূন্য হাওয়ায় উড়ে

দেখতে যেতাম নতুন জগৎ সপ্ত আকাশ ফুঁড়ে

সবাই ছিলাম দুষ্টুমিতে বেজায় রকম পাকা

রডের দ্বারা তৈরি হতো গাড়ির বড়ো চাকা।

আমগাছে আর বরইগাছে মাটিরদলা ছুঁড়ে

সবকুড়াতাম কোঁচড় ভরে মাটিসহ খুঁড়ে

ঠিকঠিকানা নেই আমাদের ছিলাম বাঁধনহারা

উচ্ছ্বলতায় ছিলাম যেন গতির ঝরণাধারা।

আমরা দিতাম ক্ষীরাক্ষেত আর শসাক্ষেতে হানা

মনটা কারও স্থির ছিল না ঠিক কচুরিপানা

কাদা-জলে জবুথবু হতাম বিকেলবেলা

ফুটবলে মন থাকতো মজে আর হা ডু ডু খেলা।

নদীরধারে করচগাছের ডালটি গেলেই বেঁকে

আমরা সবাই সেই সে গাছে চড়ে যেতাম জেঁকে

ভয় ছিল না ডর ছিল না এই ধরণীতলে

মনের সুখে লাফ দিয়েছি স্বচ্ছ-ঘোলা জলে।

ফড়িং হয়ে তপ্তদুপুর পার করেছি অনেক

মনে পড়ে সেই সেদিনের ঝলমলানো ক্ষণেক।