এক বছরে দুদকের মামলার জালে ২৮৮ সরকারি কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার : সারাদেশের দুর্নীতিবাজদের একটি বড় আতঙ্ক হলো ‘দুদক’। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশ কয়েক বছর ধরে কঠোর নজরদারি করে আসছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া  বিভিন্ন কৌশলে আসামিদের গ্রেফতার করছেন দুদকের কর্মকর্তারা। কোনো ঘটনায় এককভাবে, কোনোটায় পুলিশের সহযোগিতায়। সংস্থাটির হটলাইনে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কার্মচারীদের বিরুদ্ধেই বেশি দুর্নীতির অভিযোগ আসে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এলজিইডি, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সোনালী, জনতাসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাও।

দুদক সূত্র জানায়, বিভিন্ন অভিযোগ অভিযোগ অনুসন্ধানের পর ২০১৭ সালে দুদকের দায়ের করা অর্ধশতাধিক মামলায় মোট ২৮৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে।  তার আগের বছর ২০১৬ সালে ৩৯৯ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৮৩ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এজহারভুক্ত আসামি হয়েছেন।

কমিশনের নতুন চালু হওয়া হটলাইনে গত বছরের ২৭ জুলাই থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ছোটবড় পাঁচ লাখ অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকে জমা পড়া সকল অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এর মধ্যে সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংখ্যা বেশি।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, বিভিন্ন সময়ে পাওয়া লিখিত অভিযোগ ও হটলাইনে প্রাপ্ত অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখেছে কমিশন। এছাড়া এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা করে সে অনুযায়ী অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুদক সেবা প্রতিষ্ঠানে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের এপ্রিলে রাজউকের পরিচালক একেএম শফিকুর রহমান, রাজউকের হিসাবরক্ষক তাহমিদুল ইসলাম মিলনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। একই মাসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক আবু আশরাফ সিদ্দিকীকে ঘুষের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার ৬০২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় রাজউকের সাবেক সহকারী পরিচালক ইকবাল পারভেজকে। এছাড়া ২০১৭ সালের ৩০ মে ‘ঘুষ হিসেবে নেওয়া’ দুই লাখ টাকাসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে দুদক। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুর জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলামকে গেফতার করা হয়। গত ৮ এপ্রিল সরকারি জমি দখল ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কুতুব উদ্দীন ওরফে ‘ভূমি কুতুবকে’ গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।