সিংগাইরে এক ইউনিয়নে ৩৩টি ইটভাটা

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : উপজেলার বলধারা ইউনিয়নে কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠেছে ৩৩টি ইটভাটা। এসব ভাটা ফসলি জমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করলে ও এগুলো বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিচ্ছেন না কোন আইনানুগ ব্যবস্থা। এসব দেখেও  তারা না দেখার ভান করছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মধ্যে বিশেষ করে বলধারা ইউনিয়নে ৩০টি ইটভাটার  কারণে দূষণের কবলে পড়েছে পুরো এলাকাটি। ফসলি জমিতে এসব ইটভাটা গড়ে ওঠায় কমে গেছে খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল। উপজেলা ভূমি অফিস থেকে প্রাপ্ত হিসেব অনুযায়ী, সিংগাইর উপজেলায় মোট ইটভাটা রয়েছে ৫৬টি। এরমধ্যে বলধারা ইউনিয়নেই গড়ে ওঠেছে ৩৩টি। যার অধিকাংশই অনুমোদনবিহীন। এলাকাবাসীর তথ্য মতে, এএবি কোম্পানীর ৪টি লাইসেন্সেই চলছে ১২টি ইটভাটা। এ ইউনিয়নের দুই কিলোমিটারের মধ্যেই গড়ে ওঠেছে ১৫টি ইটভাটা। তেলিখোলা গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী খোলাপাড়া গ্রামটি ইটভাটার গ্রামে পরিণত হয়েছে। এ গ্রামেই রয়েছে নয়টি ইটভাটা। আরো একটি ভাটা গড়ে তোলার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই উপজেলা কৃষি অফিসে ধর্ণা দিচ্ছেন তারা। আর্থিক সুবিধা কখনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা ভাটাগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন। দেখার যেন কেউ নেই। গত ২ জানুয়ারি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ফসলি জমিতে ভাটা স্থাপন ও ইটের মাপ কম থাকায় একাধিক ইটভাটায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর সিংগাইর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এএমবি ও এমএবি ইটভাটাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। তারপরও থেমে নেই অনুমোদনবিহীন ভাটার কার্যক্রম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠেছে প্রায় ৭০টি ইটভাটা। যার মধ্যে মাত্র ৩২টি ভাটার লাইসেন্স আছে বলে জানা গেছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। পাশাপাশি খাদ্য ঘাটতির আশংকা করছে অনেকে। পরিবেশের উপর নেমে এসেছে বিরুপ প্রভাব। সর্বনাশা এ ইটভাটা বন্ধে  এলাকাবাসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেয়া হয়েছে । প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করা করছে এলাকাবাসি।

প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভাটা মালিক জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করতে পারলে লাইসেন্স ছাড়াও ইটভাটা চালানো যায়। এদিকে, ফসলি জমি রক্ষায় ২০১৩ সালের পরিবেশ আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন  যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করে করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন জমির মালিকসহ সচেতন সিংগাইরবাসি।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) হামিদুর রহমান বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই একাধিক ইটভটাকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেছি। অনুমোদনবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।