শান্তি আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রমজান

আজিজ পাশা, সাংবাদিক: “রমজ” শব্দ থেকে এসেছে “রমজান।” “রমজ”-এর অর্থ জ্বালিয়ে দেয়া, দগ্ধ করা। রোজা মনের কলুষ-কালিমা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়ে মনকে নির্মল ও পবিত্র করে। পাপরাশিকে দগ্ধ করে মানুষকে করে তোলে পুণ্যবান। প্রতি বছরের মতো এবারও রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসছে মাহে রমজান। খনি থেকে বের করে আনা সোনা আগুনে পোড়ালে যেমন খাদ থেকে মুক্ত হয়ে সোনায় সোনালি রং ফুটে ওঠে, গাছ পুড়ে কয়লা হয় আর কয়লা পুড়লে হীরক খণ্ড তৈরি হয়, তেমন রমজানের দাহনে সিয়াম সাধক গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে কুরিপু ধ্বংস হয়ে সোনালি মানুষে পরিণত হয়। খোশ আমদেদ মাহে রমজান, আহলান ওয়া সাহলান মাহে রমজান। এ মাসেই মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেছেন আর মুমিন-মুসলমানের জন্য সিয়াম সাধনা তথা রোজাকে ফরজ করেছেন।

পবিত্র রমজানুল মোবারক। মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও ইবাদতের মাস। আরবি বর্ষপঞ্জির নবম মাস রমজান। এই মাসে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিধায় এ মাসের গুরুত্ব অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই মাসে এমন এক মহিমান্বিত রাত রয়েছে, যেটি মর্যাদার দিক থেকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাস মুমিনের কাছে এক মহা আনন্দের। সারাদিন রোজা রাখা, রাতে তারাবি আর সন্ধ্যায় ইফতার আনে অনন্য আমেজ। কুরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় বই পড়ে বেশ গাম্ভীর্যতায় কাটে সময়। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা আত্মসংযমের নীতি (তাকওয়া) অর্জন করতে পারো।’ (সূরা বাকারা : ১৮৩)।

রমজান ইবাদতের মাস। মানবতা উৎকর্ষের মাস। মানুষ আর জ্বীন জাতিকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্য। সুতরাং স্পষ্ট কথা হচ্ছে বান্দাহকে অবশ্যই আল্লাহ্‌ জাল্লা শানুহুর কাছে মাথা নত করতে হবে, ইবাদতে তার সমগ্র জীবনটা অতিবাহিত করতে হবে। মাহে রমজান আগমনের দুই মাস আগেই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তুতি শুরু করে দিতেন।

দ্বীন ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে রমজানের রোজা। “রোজা” একটি ফারসী শব্দ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ও সংযম পালন হচ্ছে “রোজা” বা “সওম”। রোজা হচ্ছে সংযমের সাধনা। সকল কু-প্রবৃত্তি দমনের নিমিত্তে কঠোর সংগ্রাম। রমজানের আগমনে সারা দেশে ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছে। সরকার রোজাদারদের সম্মানে অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে।

রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমরা যেন আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি গরিব-দুঃখী মানুষের ক্ষুধা-দারিদ্র্যের যন্ত্রণা সম্যক উপলব্ধি করে তাদের প্রতি সাহায্য-সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, মাহে রমজানের প্রথম দিনে মহান আল্লাহর দরবারে এই প্রার্থনা হোক আমাদের সবার।