অনুমোদন না পাওয়ায় সঞ্চালন লাইন করতে পারছে না ডিপিডিসি

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১২টি সাব স্টেশনের তিনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।বাকি নয়টির নির্মাণ কাজ দুই থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ হচ্ছে।কিন্তু সাবস্টেশনগুলোতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সংযোগের বিষয়টি আটকে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ডিপিডিসি বলছে, ঢাকার বিদ্যুৎ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখন নতুন সাবস্টেশন চালু করতে ব্যর্থ হলে আগামীতে লোডশেডিং বন্ধ করা যাবে না। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশন বলছে, রাস্তা কেটে বারবার নাগরিক ভোগান্তি তৈরি করতে চায় না তারা।

সাবস্টেশনগুলোর মধ্যে তিনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, ‘বাকিগুলোও ২ থেকে চার মাসের মধ্যে চলে আসবে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করার জন্য সিটি করপোরেশনের অনুমোদন প্রয়োজন। অনেক চেষ্টা করেও সেই অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না।’ ডিপিডিসি জানায়, রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কমলাপুর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, মুগদাপাড়া, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, গ্রিন রোড, ঝিগাতলা, দয়াগঞ্জ ও কাজলায় নতুন ১২টি সাবস্টেশন নির্মাণ  করা হচ্ছে। এরমধ্যে মুগদাপাড়া, বনশ্রী ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকার তিনটি সাবস্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অন্য নয়টি সাবস্টেশনের নির্মাণ কাজ ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে শেষ হবে।

ঢাকার মধ্য এলাকায় গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে ডিপিডিসির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এতে নতুন ২২টি সাবস্টেশন নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।এ প্রকল্পটি সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় ১২ সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, সাবস্টেশনগুলো সচল করতে হলে বৈদ্যুতিক সোর্স লাইন (সঞ্চালন লাইন) নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু এখনপর্যন্ত সিটি করপোরেশন অনুমতি দেয়নি। এ ধরনের সোর্স লাইন নির্মাণের জন্য তিস মাস সময় প্রয়োজন হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মহাম্মদ বেলালকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তবে অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ‘সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘যেসব রাস্তা কাটার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে, তার সবগুলোতে নতুন কার্পেটিং করা হয়েছে।এখন এসব রাস্তা কাটলে মানুষ আবার দুর্ভোগে পড়বে।’

কেন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়া হয় না জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা অনেকবার সমন্বয়ের চেষ্টা করেছি। কিন্তু অন্য সেবা সংস্থা থেকে বলা হয় আমারেও প্রকল্প অনুমোদন এবং অর্থছাড়সহ নানা বিষয় থাকে। ফলে যে রাস্তা একবার কাটা হচ্ছে সেই রাস্তা আবার কাটছে কোনও না কোনও প্রতিষ্ঠান এতে নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে। আর এমন তো কোনও প্রক্রিয়া নেই যে, রাতারাতি রাস্তা কেটে আবার তা ঠিক করে দেওয়া সম্ভব।’ এদিকে রবিবার পরিকল্পনা কমিশনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আজমের সভাপতিত্বে ডিপিডিসির উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একটি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে কেন প্রকল্প শুরুর আগেই অনুমোদন নেওয়া হলো না সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।ডিপিডিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প শুরু আগেই এ ধরনের অনুমোদন নেওয়া হয় না। প্রকল্প নির্মাণের শেষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে সোর্স লাইন বসানো হয়।ডিপিডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি এমন হওয়ায় এখন বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। প্রকল্প নির্মাণের পরও  চালু না হওয়া প্রশ্ন তোলেন তারা।