রমজানে এলেই সংযমের মাসে অসংযমী ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ায়

স্টাফ রিপোর্টার : রমজান সংযমের মাস হলেও এমাসেই যেন বেশি অসংযমী হয়ে উঠেন ব্যবসায়ীরা। সব ধরনের পণ্যের বাজারে বাড়ে দাম সাথে থাকে ভেজালের শঙ্কা। আবার সংযমের পরিবর্তে অনেককেই দেখা যায় খাবারের উৎসবে মেতে উঠতে। রমজানের প্রকৃত আচরণ কেন বাংলাদেশে? এই ধরণের আচরণ গুনাহের শামিল বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

কাওরান বাজারের পাইকারি দোকানগুলোতে সবজি পেঁয়াজসহ রোজায় প্রয়োজনীয় সকল ভোগ্য পণ্যের মজুদ আছে চাহিদা অনুয়ায়ী।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মজুদ আছে চাহিদার বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনছেন কম দামে তবে বিক্রি করার সময় দাম বেশি নিচ্ছে।

অন্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুযোগ পেলে কেউ ছাড়ে না এই একটি সময়েই তারা প্রস্তুতি নেয়। রমজান মাসে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাই দাম বেশি রাখা হয়। একই স্থানে এক কেজি পেঁয়াজের পাইকারি দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হলেও ৫০ গজ এগোলেই খুচরা বাজারে কেজি প্রতি দাম বেড়ে যায় ১০ টাকা। তার সাথে বেগুন ও শশার দাম বেড়ে যায় দ্বিগুণ।

শুধু সবজি নয় রমজানে সব পণ্যের বাজারেই আগুণ। কোনো কোনো পণ্যে বেড়েছে দ্বিগুণ তিনগুণের বেশি দাম। অথচ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশেগুলোতে হয় এর উল্টো। নানা ধরণের ছাড় পান ত্রেতারা। তাহলে সংযমের মাসে কেন অসংযমী বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা? এমন প্রশ্ন থেকেই যায় সাধারণ মানুষের মনে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে দাম কম ছিল। যখনই রোজা আসলো তাৎক্ষণিকভাবে সকল পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেল। তবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেগুলোতে ব্যবসা করে ১১ মাস আর সেবা করে রমজানে। আর আমাদের দেশে রোজার মাসে দাম বাড়ানো নামে ব্যবসায়ীরা ডাকাতি করে। যদিও বরাবরের মতোই ব্যবসায়ীদের দাবি দাম সবার নাগালেই আছে

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মওলা বলেছেন, আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। সব কিছুই নাগালের মধ্যে রয়েছে এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় পরিস্থিতিও ভালো।

বিক্রেতাদের দাম বৃদ্ধি শুধু নয়। সংযমের মাসে অনেক ক্রেতার মাঝেও লেগে যায় কেনাকাটার দুম। তার সাথে খাবার গ্রহণেও দেখা যায় অসংযম।

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলছেন, পণ্যের দাম বাড়ানো বা খাবার গ্রহণ ও কেনাকাটায় রমজান ও ইসলামী চিন্তা-চেতনার বিরোধী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদির বলেছেন, আমরা যে মোনাফা করার চেষ্টা করতেছি সেটা সম্পূর্ণরূপে ইসলামীকভাবে অবৈধ। কেউ যদি সম্পদ মজুদ করার চেষ্টা রাখে এই আশায় যে দাম বাড়বে আমি তখন বেশি দামে বিক্রি করবো। এই বিষয়ে রাসুল পাক (স.) বলেছেন, সে হলো অভিশপ্ত জাহান্নমী।

তার মতে ক্রেতা- বিক্রেতা সংযমী হওয়ার পাশাপাশি বাজারে কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার সরকারের।