ভারত সীমান্তের কারখানা থেকে দেশে ঢুকছে ইয়াবা

ফুলকি ডেস্ক : কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না মরন নেশা মাদক ইয়াবার বিস্তার। প্রতিনিয়ত কৌশল বদলে আসক্তদের হাতে পৌচ্ছে দেওয়া হচ্ছে এই গোলাপি বিষ। আগে টেকনাফ কেন্দ্রিক চালানের উপর নির্ভরতা থাকলেও এখন ভারত সীমান্তের কারখানা থেকে দেশে ঢুকছে ইয়াবা। এজন্য বেনাপোল থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত কয়েকটি নিরাপদ রোড ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। সেখান থেকে শহর এবং গ্রামাঞ্চলে সহজলভ্য হয়ে উঠছে ইয়াবা। একটু একটু করে গলছে গোলাপি বিষ। ছড়িয়ে দেয়া ধূয়ায় বোধ হয়ে আছে নেশাগ্রস্ত। আয়োজন করে এমন নেশার আসর হরহামেশায় বসছে কুষ্টিয়া শহরের মেস, বাসাবাড়ি, নির্জন বা পরিত্যাক্ত স্থানে। সীমান্ত ঘেষা এই জনপদে একসময় ফেন্সিডিল আর গাজায় প্রচলন থাকলেও তার জায়গা দখল করে নিয়েছে মরন নেশা ইয়াবা। একজন ইয়াবাসক্ত বলেন, আমার প্রথম ইয়াবা নেশা শুরু হয় বন্ধুদের সাথে। শখের বসে গিয়েছিলাম ওদের এখানে খেতে, পরে একটা-দুটা খেতে খেতে নেশায় পরিনত হয়েছে। নেশায় আসক্ত হয়ে গেলে সেটা থেকে আর ফিরে আসা যায় না। এর ফলে রাত জাগতে হয়, রাতে ঘুমানো যায় না। আমাদের বয়সের কিছু ছেলে আছে যাদের কাছে ইয়াবা বিক্রি করি এতে আমাদেরও খাওয়া হয় এবং ওদেরও দিতে পারি। আগে সড়কের র্দীঘ পথ পারি দিয়ে টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসতো এই অঞ্চলে, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নৌপথ নির্ভর বিকল্প পথ ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। সেই সাথে প্রতিবেশীদেশের সীমান্তে কারখানার অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

র‌্যাব-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারত হতে ইয়াবা যশোর, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়াতে বর্ডার আছে, একটি বর্ডার আছে দৌলতপুর। দৌলতপুর দিয়ে বেশ ভাল পরিমান ইয়াবা দেশে ঢুকছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা যেই রোডে ইয়াবা আনতো সেই রোডটা এরা পরিবর্তন করে ফেলেছে।  নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা বলছেন সহজলভ্য হওয়ায় এই মাদক অল্প সময় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কুষ্টিয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল ১৪৪ পিস, ২০১৬ সালে উদ্ধার হয়েছে ৩০১ পিস, ২০১৭ সালে এসে ২৮৫৬ পিস, অনেক পরিমানে বেড়েছে। ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৭৯৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। ইয়াবার বিস্তার লাভে প্রশাসনের অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলার আহ্বান সচেতন সমাজের।