জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ও সেনা মোতায়েনে দলগুলোর সমঝোতা চায় ইসি

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও সেনা মোতায়েনে নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা চাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে করা সংলাপের মতামত নিয়ে প্রকাশিত ইসির বইয়ে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা কমিশন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। এ কর্মপরিকল্পনায় সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপ শুরু করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরের ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এ সংলাপ।

প্রায় তিন মাসের সংলাপ শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলে, সংলাপে যেসব প্রস্তাব এসেছে তা বই আকারে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে। আর ইসির পক্ষে যেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব সেগুলো করা হবে। আইন সংশোধনের বিষয়গুলো সংসদে পাঠানো হবে। আর যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিষয় রয়েছে সেগুলো সরকার নির্ধারন করবে। এরই মধ্যে নির্বাচনী সংলাপের সুপারিশসহ বইটি সরকারের সব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি। কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংলাপে সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন, ভোট গ্রহণে ইভিএম ব্যবহার, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন না করা (করলে শুধু স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা), সংসদীয় আসনগুলোর বিদ্যমান সীমানা বহাল রাখাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিএনপি বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত, নির্বাচনী সহায়ক সরকার, নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার না করা, সংসদীয় আসনের সীমানা ২০০৮ সালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াসহ ২০ দফা দাবি জানিয়েছিলো।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুর আহসান কলিমুল্লাহ আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, যেহেতু নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করবে তাই দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সমঝোতা হলে নির্বিঘ্নে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। ইভিএম ও সেনা মোতায়েনে দলগুলোর সমঝোতা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন এমন প্রশ্নের মতামতে তিনি বলেন, বিষয় দুটি নিয়ে নির্বাচন কমিশন নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ প্রধান দলগুলোর মধ্যে যদি সমঝোতা করা যায় তাহলে যে কোন নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা সম্ভব। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশন বেশ কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। তাই জাতীয় নির্বাচন এ কমিশনের দ্বারাই সুষ্ঠু করা সম্ভব।