আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ৯ বছর(পর্ব-১)

 ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল। সারাবিশ্বে তখন অর্থনৈতিক দুরাবস্থা বিরাজমান ছিল। সেখানে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৫২। যেকোন বিচারে সেটি ছিল বিস্ময়কর সাফল্য। কিন্তু ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনের ফলাফলে তার কতটুকু প্রভাব পড়েছিল? এবার দেখা যাক গত ৯ বছরের উন্নয়নে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কতটুকু হয়েছে।

১. ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.২৮ শতাংশ। পূর্ববর্তী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.১১ শতাংশ। এ সময়ে মাথাপিছু জাতীয় আয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় পূর্ববর্তী অর্থবছর হতে ১৪৫ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০১০ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। এ সময় চরম দারিদ্র্যের হার ১৭.৬ থেকে ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

২. ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানি আয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) রফতানি আয় পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময়ে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে মূলধনী পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৫ শতাংশ, যা শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।

৩. ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জনশক্তি রফতানি পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় ৩২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহে গতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) রেমিটেন্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪.৪ শতাংশ। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৭) সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৫.৯ শতাংশ, পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল ৫.৪ শতাংশ।

৪. কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে যথাক্রমে ৩৩৮.৯০, ৩৩৮.৩৪, ৩৪৩.৫৭, ৩৪৭.১০ ও ৩৪৭.১০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। ফলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে।

৫. আদালতের কার্যক্রম আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিজিটাল মোবাইল কোর্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খুব সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে অনলাইনে এবং প্রয়োজনে অফলাইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্টের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেন। প্রায় ৭৯ হাজার ৬০টি মামলা ই-মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৪.২ মিলিয়ন সেবাগ্রহীতা ই-মোবাইল কোর্ট থেকে সেবা গ্রহণ করেছে।

৬. ঢাকা মহানগরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর পরিবেশ দূষণ রোধে রাজধানীর হাজারীবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থিত ট্যানারিসমূহকে সাভারে পরিবেশবান্ধব স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার ও ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণসহ চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্প বাস্তবায়নেরর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জে একটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) শিল্পপার্ক বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পটি মুন্সীগঞ্জ জেলাধীন গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় ২০০ একর জমিতে স্থাপিত হচ্ছে।  এ প্রকল্পে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৪২টি উন্নত প্লট তৈরির মাধ্যমে ৪২টি শিল্প-কারখানা স্থাপিত হবে এবং ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।