ইসরায়েলে প্রীতি ম্যাচ বয়কটে আর্জেন্টিনার প্রতি ফিলিস্তিনি ফুটবলারের আহ্বান

ফুলকি ডেস্ক: শ্বকাপ শুরুর আগে ইসরায়েলে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে মেসিদের। ৯ জুন এই প্রস্তুতি ম্যাচ মাঠে গড়ানোর কথা। ইসরায়েলের মাটিতে মেসিদের এই প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলার অনুরোধ করেছেন ফিলিস্তিনের সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ খলিল।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস খোলার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সরব ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মুক্তিকামী মানুষ। ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এর আগে গাজায় অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হন। এই চরম পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসিভক্ত গাজা উপত্যকার মানুষেরা তা মেনে নেন কীভাবে? গাজা যখন মৃত্যু উপত্যকা, তখন মেসিদের কাছে ফিলিস্তিনের সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ খলিলের দাবি, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলো না।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইসরায়েলে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে মেসিদের। ৯ জুন এই প্রস্তুতি ম্যাচ মাঠে গড়ানোর কথা। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সহিংসতার জন্য প্রস্তুতি ম্যাচটি না-ও খেলতে পারে হোর্হে সাম্পাওলির দল। কিন্তু ইসরায়েলের ৭০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচিতেই প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্টিনা।
কিন্তু ফিলিস্তিনের আর দশজন মুক্তিকামী মানুষের মতোই সাবেক ফুটবলার খলিল এই প্রস্তুতি ম্যাচ মাঠে গড়ানোর বিপক্ষে। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা দল, বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে বলছি, কারণ তিনি ফিলিস্তিনে ভীষণ জনপ্রিয়, বিশেষ করে গাজা উপত্যকায়। ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচটি বয়কটের আবেদন জানাচ্ছি। ওরা আমাদের মাটি দখল করছে।’

ফিলিস্তিনের ক্লাব আল-সালাহর ফুটবলার ছিলেন খলিল। গত এপ্রিলে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘সেলফি’ তোলার সময় খলিলের হাঁটুতে গুলি করে ইসরায়েলি স্নাইপার। তাঁর হাঁটু পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ফুটবল ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে যায়। খলিল এ ঘটনা প্রসঙ্গে ভিডিওতে বলেন, ‘ইসরায়েলি স্নাইপারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলাম। আমার ডান ও বাঁ হাঁটুতে গুলি করা হয়। হাঁটুর ক্যাপের জায়গাটা অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছি।’